নরসিংদীতে গ্রিল কেটে বাড়িতে চুরি, ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ ৫০ লাখ টাকা লুট
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগে এ চুরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুখন চৌধুরী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন খবরের কাগজকে বলেন, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্ব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী সুখন চৌধুরী (৫১) নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরের ইভা ডাইংয়ে রং মাস্টার হিসেবে কাজ করেন। তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার গুহিয়ালা গ্রামের মতীন্দ্র চৌধুরীর ছেলে। গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেবাসংঘ এলাকার ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন তিনি।
আরও পড়ুন
সুখন চৌধুরী ও তার স্ত্রী পূরবী পণ্ডিত সাংবাদিকদের জানান, স্বজনদের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে রোববার দুপুরে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টার গুহিয়ালায় যান। পূজা উদ্যাপন শেষে শুক্রবার রাত আটটার দিকে নরসিংদীর বাসায় ফিরে দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে পারছেন না তারা। তালা কাটার পরও দরজা খুলতে না পারায় তাদের সন্দেহ হয়।
পরে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে সুখন চৌধুরী দেখতে পান, জানালার গ্রিল কাটা। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই গ্রিল দিয়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ভেতর থেকে দরজা খুলে দেখতে পান, ঘরের আসবাবপত্র ও জামাকাপড় এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারিও ভাঙা। আলমারিতে রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খুঁজে পাননি তারা।
আরও পড়ুন
সুখন চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে একটি ডাইং কারখানা করার জন্য ৫০ লাখ টাকা এনে বাসায় রেখেছিলাম। ডাইং কারখানা কেনার কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীর গয়নাগুলোও সেখানে ছিল। গত ছয় দিন আমরা বাসায় ছিলাম না। এই সুযোগে কোনো এক সময় চোরেরা এসব নিয়ে গেছে। একটি ডাইং কারখানা করার স্বপ্ন ছিল সারা জীবনের। চোরেরা আমার সেই স্বপ্নটাই চুরি করে নিয়ে গেছে।’
শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন
আরও পড়ুন
গোপালগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->গোপালগঞ্জ শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে শেফালী বেগম (৪০) নামের এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের তেঘরিয়া কালী মন্দির সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শেফালী বেগম ওই এলাকার শাহীন মিয়ার সাবেক স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারী তেঘরিয়া কালী মন্দিরের পাশের একটি বাসায় ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন। ৬-৭ মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার পুত্রবধূ বাবার বাড়ি যান এবং ছেলেও বাইরে ছিলেন। ফলে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। শনিবার বাসায় ফিরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে ছেলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান।
আরও পড়ুন
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাইম হায়দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধারণা করা হচ্ছে বেশ কয়েক দিন আগেই ওই নারী মারা গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
বাদল/এএফ
আরও পড়ুন
আকাশে দুই প্রশিক্ষণ বিমানের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ পাইলটের
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ফিলিপাইনে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে দুটি প্রশিক্ষণ বিমানের সংঘর্ষে চার পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর বিমান দুটি ঘাঁটির সীমানার মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়।
ফিলিপাইন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পড়া উভয় বিমানই এসএফ-২৬০ মডেলের একক প্রপেলারচালিত প্রশিক্ষণ বিমান। তবে এ ঘটনায় চার পাইলট নিহত হলেও অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানিলার দক্ষিণে অবস্থিত ফার্নান্দো বিমানঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুটি এসএফ-২৬০ বিমান আকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে বিমান দুটি ঘাঁটির সীমানার মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়।
তবে কী কারণে বিমান দুটি পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আরও পড়ুন
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইন বিমান বাহিনী। তদন্তের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানের অবস্থান, উড্ডয়ন কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএন/
আরও পড়ুন
শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সে এবার মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->পঞ্চমবারের মতো হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ পাওয়া যায়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণনা শেষে সন্ধ্যায় সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৩৫ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ছিল ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় রূপি ৭ হাজার ৬৪৭, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ আমেরিকান ডলার, ওমানের ১৩৫০.৫০ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৫ দেহরাম, মালদ্বীপের ১৫ রুপি, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ ইউরো, ৩৩ সেন্ট, বাহরাইনের ১০০ পয়সা, হংকংয়ের ১০ ডলার, ব্রুনাইয়ের ১ ডলার, নেপালের ৫৫ রুপি, পাকিস্তানের ১০০ রুপি, রাশিয়ান ৫০ রুবল ও শ্রীলঙ্কান ৫০০ রুপি।
আরও পড়ুন
এর আগেও চার দফায় মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। তবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আপাতত মাসে একবার গণনা করা হবে। এরপর ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। একজন কম্পিউটার অপারেটরও নিয়োগ হবে। তখন প্রতিদিন গণনার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।
এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
গত ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফার ১৯ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা জমা হয়। দুইবার গণনার সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।
গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গত ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা, স্বর্ণ, রুপা ও একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।
রিফাত/
আরও পড়ুন
বিশ্ব পোলিও দিবসে সিলেটে রোটারির র্যালি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে সিলেটে র্যালি করেছে রোটারি ক্লাব ডি-৬৫ সিলেট জোন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর শারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের করা হয়। এরপর চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘End Polio Now’ ও ‘One World, One Goal’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি পিডিজি শহীদ আহমেদ চৌধুরী।
আরও পড়ুন
বক্তব্য দেন রিপসা ২০২৬-২০২৭ স্পেশাল অ্যাডভাইজার রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) রোটারিয়ান মো. কবির উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান জাকির আহমেদ, কো-অর্ডিনেটর (অ্যাডমিন) অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ চৌধুরী ও পাস্ট প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ খালেদ।
প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন রোটারিয়ান মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট এমএ হাফিজ পিএইচএফ।
আরও পড়ুন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সেলীনা আক্তার চৌধুরী, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান এএসএমজি কিবরিয়া এবং ফুড চেয়ার ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া সিলেট জোনের প্রায় সব ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা ও রোটারিয়ানদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডি-৬৫ সিলেট জোনের প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলে রোটারির অবদান অনন্য। এই কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বাজেট রোটারি থেকে দেওয়া হয়। র্যালির মাধ্যমে আমরা চাই, সারা বিশ্ব জানুক পোলিও নির্মূলে রোটারি এখনো অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’
বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল রোটারি ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম। ১৯৭৯ সালে ফিলিপাইনে শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি পোলিও নির্মূলের কার্যক্রম শুরু করে।
পরে ১৯৮৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সঙ্গে রোটারি গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হয়। এই বৈশ্বিক উদ্যোগ শুরুর পর বিশ্বে পোলিওর ঘটনা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাংলাদেশে পোলিও নির্মূলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় টিকাদান দিবস পালন শুরু করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে ২১টি জাতীয় টিকাদান দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ১০০ কোটি ডোজ মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সর্বশেষ পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর দেশে আর পোলিওভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব থেকে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় পোলিওর বিরুদ্ধে টিকাদান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পোলিও দিবস প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর পালিত হয়। পোলিও টিকার উদ্ভাবক জোনাস সালকের জন্মদিন স্মরণে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য পোলিও নির্মূলে বিশ্বব্যাপী চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা।
এ সময় সর্বোচ্চ নিবন্ধন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে রোটারি ক্লাব অব সিলেট মেট্রোপলিটন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট কিনব্রিজ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট আর্কেডিয়া, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল ও রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
রিফাত/
