আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে 'এল নিনো'। বিগত কয়েক বছরে 'এল নিনো'-র চরম প্রভাব প্রত্যক্ষ করছে পৃথিবী। স্প্যানিশ ভাষায় 'এল নিনো'-র অর্থ 'ছোট বালক'। এই নাম ১৬০০-এর দশকে দক্ষিণ আমেরিকার স্প্যানিশ জেলেরা প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। তাঁরা লক্ষ্য করেছিলেন যে, সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে উঠলে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় হয়। ফলে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে। এর প্রভাব সাধারণত ক্রিসমাসের সময় স্পষ্ট হয়। তবে গত কয়েক দশকে এই আবহাওয়া ঘটনার স্থায়িত্ব বেড়েছে। এ বছর ডিসেম্বরে এর সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানোর পূর্বাভাসের আগেই এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, 'এল নিনো'র প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাভাবিক ও চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- চিলির আটাকামা মরুভূমিতে ফুলের সমারোহ দেখা গিয়েছে, অন্যদিকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে টানা ৩৫ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ১৮৮৬ সালের পর দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বৃষ্টির ঘটনা।
শক্তিশালী হতে থাকা 'এল নিনো'র প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সেপ্টেম্বরে আটাকামায় প্রায় ২০০ প্রজাতির লক্ষ লক্ষ ফুল ফুটে ওঠে। মনোরম দৃশ্য দেখতে আসা পর্যটকদের তোলা ছবিতে দেখা যায়, পৃথিবীর মেরু-বহির্ভূত সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিটি যেন বেগুনি রঙের গালিচায় ঢাকা পড়েছে।
আটাকামা মরুভূমিটি প্রশান্ত মহাসাগর ও আন্দিজ পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি চিলির উত্তর উপকূল বরাবর প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
জুলাই ও আগস্ট মাসে চিলির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের মাত্রা ১৯৫০-এর দশকে পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে আর কখনও দেখা যায়নি। কোনও কোনও এলাকায় ১৮০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সম্পর্কে চিলির বন বিভাগ 'কোনাফ'-এর আটাকামা জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রধান সিজার পিজারো বলেছেন, "এমনটা আগে কখনও রেকর্ড করা হয়নি।"
এই অদ্ভুত ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন টোকিও এল নিনোর কারণে সৃষ্ট 'বৃষ্টিজনিত ক্লান্তিতে' ভুগছিল। জাপানের রাজধানীতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে শাকসবজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি, টোকিওর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভাবছিলেন যে তারা আদৌ আর কখনও সূর্যের দেখা পাবেন কি না।
'মাইনিচি শিমবুন'-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মধ্য টোকিওতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, একই সময়ে সেখানে মাত্র ৪৫.৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া গিয়েছে, যা এযাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। টানা ১৪ দিন সূর্যের দেখা মেলেনি।
টোকিওতে এটিই ছিল দীর্ঘতম বৃষ্টিপাতের সময়কাল। এর আগের দীর্ঘতম সময়কালটি ছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত। মোট ৩৩ দিন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে যে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ১৯৫০ সালের পর থেকে দেখা যাওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম এবং এটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
