ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন খাতের ৮০টি স্বনামধন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত জমা, সাক্ষাৎকার এবং ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শেষ হওয়া এ মেলায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল নেসলে, বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক পিএলসি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরপূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস এ মেলার আয়োজন করে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মাসুদ খান। তিনি বলেন, কর্মজীবন একটি ম্যারাথন দৌড়ের মতো। এখানে কোনো শর্টকাট নেই। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উৎকর্ষ, সততা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া, তাদের চাহিদা বোঝা এবং সাক্ষাৎকারে নিজেদের বিশেষ যোগ্যতা তুলে ধরার পরামর্শও দেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানই শিক্ষার্থীদের ভিত্তি। পাঠ্যবই ও গবেষণায় থাকা জ্ঞান বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে। তাই অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি মানবিক দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। মানবিক দক্ষতা না থাকলে অন্যদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, হারিয়ে যেতে পারে সহমর্মিতাও।
ক্যারিয়ার মেলার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ‘ফ্রম আর্লি ক্যারিয়ার টু ফিউচার লিডার: বিল্ডিং আ ক্যারিয়ার দ্যাট ক্রিয়েটস ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী এক সন্ন্যাসীর গল্প তুলে ধরেন। প্রতিদিন ভোরে থালা-বাসন ধোয়ার একঘেয়ে কাজের মধ্যেও ওই সন্ন্যাসী কাজের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, তার কাজ অন্যদের সুস্থ থাকতে সহায়তা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, হতাশা ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কঠিন সময় মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কর্মজীবনে নিজের কাজ পরিচালনা থেকে দল পরিচালনা এবং পরবর্তী সময়ে অন্যদের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ। তিনি বলেন, নতুন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতেও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে আগামী দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনুমান করা কঠিন।
এর আগে ‘মিট দ্য সিইও’ পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও সার্বিক কর্মপরিবেশ বিবেচনা করা জরুরি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতিও আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মেলার বিভিন্ন পর্বে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, সিটি ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিজওয়ান দাউদ সামস, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার শারমিন সুলতান ও চিফ সলিউশনস আর্কিটেক্ট শাহ আলী নেওয়াজ তপু, আইএইচএইচ হেলথকেয়ারের মানবসম্পদ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক তৌফিকা ইরফান এবং প্রিমিয়াম সুইটসের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহরিয়ার রহমান প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তি/
