শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিমা বিসর্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, অপরাধপ্রবণ এলাকা, জনবহুল স্থান এবং বড় পূজামণ্ডপে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরসাইকেল টহলও পরিচালনা করা হবে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার জন্য হটলাইন চালু রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট এবং বিশেষ টহল দল কাজ করছে। পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআরবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জনের দিনগুলোতে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায়ও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেলও চালু থাকবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) মো. আইয়ুব আলী জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বছর দেশে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হবে। মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
The post পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা বিসর্জনে নজরদারিতে ড্রোন-হেলিকপ্টার appeared first on ভোরের চেতনা.
