এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর ভাঙ্গনরোধে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা ধসে যেতে শুরু করেছে।
এতে তীব্র ভাঙ্গনে আতঙ্কেদিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিও ব্যাগ ফেলার ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণেই মাস না পেরোতেই এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ধসে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের ‘নতুন ব্রিজ হতে সমিতিরহাট’ পর্যন্ত সড়কের হালদার নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন ঠেকাতে এই জিও ব্যাগগুলো ফেলা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস পার হতেই ব্যাগগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা ইমন সিকদার, সুমন, নাছির উদ্দিন ও আবু তাহের বলেন, “বেড়িবাঁধ অংশে এর আগেও ঝুকিপূর্ণ ছিলো, অনেকদিন পর জিও ব্যাগ দেয়াতে আমরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার একমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এসব জিও ব্যাগ ধসে যাচ্ছে। ব্যাগ গুলো যেকোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে। আমরা এখন চরম ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছি।”
বর্তমানে নদী ভাঙনের কারণে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পাড়া ও বসতবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে মুকিম সিকদার বাড়ি, চাঁন গাজী তালুকদার বাড়ি, শাহআলম সিকদার বাড়ি, মজুমদার বাড়ি এবং হযরত মতিয়র রহমান শাহ বাড়ি।
এ বিষয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ডি কাইসার বলেন, ” হালদা নদীর বেড়িবাঁধ রক্ষায় এগুলো ইমার্জেন্সী (জরুরি) কাজ। এ কাজ গুলোর বিল এখনো দেওয়া হয়নি।”
তবে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে অবিলম্বে জিও ব্যাগ ধসে যাওয়ার কারণ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
The post ফটিকছড়িতে হালদার ভাঙন রোধে দেওয়া জিও ব্যাগ স্থাপনের পরেই বাঁধে ধস্ appeared first on Dhaka Protidin.
