নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দামে অনেকদিন ধরেই দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম সবকিছুই যেনো চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে। প্রতিদিনই দ্রব্যমূল্যের চাপ সহ্য করেই জীবনধারন করছে সাধারণ মানুষ। এমনিই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজারে সামান্য দাম কমতে শুরু হয়েছে সবজির। উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন করে সবজি আসতে শুরু করায় দাম আরও কমার আশা করছেন বিক্রেতারা।
তবে সবজির দাম কমলেও আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমের দাম সামান্য কমলেও মুরগি, মাছ ও মুদি দোকানের বিভিন্ন পণ্যের দাম এখনও চড়া। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ১২০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১২০ টাকা, ভারতীয় নতুন আলু ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, হাইব্রিড পটল ৬০ টাকা, দেশি পটল ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা ও বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবুর দাম ৪০ টাকা। সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, বাজারে উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি আসতে শুরু করেছে।
এ কারণে দাম অনেকটাই কমে গেছে। আরও কমবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগেই শিম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। এখন আছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। এমন সবকিছুর দামই এখন কমবে। আর যেসব সবজির এখন মৌসুম নয়, সেগুলোর দাম তো বেশিই থাকবে। এদিকে বাজার করতে আসা কাউসার হোসেন বলেন, সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবে সব সবজি যখন ৫০ টাকার মধ্যে আসবে, তখন ধনী-গরিব সবার কিনতে সমস্যা হবে না। তখনই বলা যাবে, দাম কমেছে। এর আগে বলা যাচ্ছে না যে দাম কমেছে। দুই দিনের ব্যবধানে আদা-রসুনের দাম আবারও বেড়েছে।
একই সঙ্গে পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত সোমবার ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। আবার একই সময়ে চায়না রসুন ১৭০-১৯০ টাকা, চায়না আদা ১৫০-১৬০ কেজিতে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে চায়না রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং চায়না আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে। এখন বাজারে ক্রস জাতের পেঁয়াজ আকার ও মানভেদে ৬০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাল ও সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। বগুড়ার আলুর দাম ৪০ টাকা। অন্যদিকে দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং চায়না আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, কালকে আদা এনেছি ১৩০ টাকা কেজি আর এখনকে আনলাম ১৭০ টাকা কেজি। তাহলে কত টাকা বাড়লো তাও আবার ভেজা আদা। এটা শুকালেই ওজন আরও কমে যাবে। তাহলে কীভাবে হয় হঠাৎ করে এরকম বেড়ে যাবে তার কারণটা কী এমন তো না যে আমদানি কমেছে। পাইকারদের কাছে গিয়ে তো দেখি না যে মাল কম আছে। মাল তো ভরপুর আছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন বাজারে ডিমের দাম সামান্য কমলেও মুরগিসহ অন্যান্য মাংসের দাম এখনও চড়া।
এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়। হাঁসের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। সহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, ডিমের দাম এখন সামান্য কমেছে। আসলে এখন ডিমের দাম কমারই সময়। কিন্তু তারপরও এত দিন ধরে দাম বাড়তি থেকেছে। এদিকে বাজারে মাছের দামও নেই সব ধরনের ক্রেতাদের ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এখন বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কালিবাউশের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বাতাসি মাছ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং মেনি মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি ও মাছ-মাংসের পাশাপাশি মুদি দোকানের পণ্যের দামও ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৫ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৌটাজাত ও খোলা ঘি প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত ও খোলা চিনি ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, জিরা ৫০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিআলো/অর্নব