সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে ক্বেরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করা ২২৪ জনের চূড়ান্ত পর্বে দুই বিভাগে চারটি করে গ্রুপের মোট ৮০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে; অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি সাংস্কৃতিক যোগ্যতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ক্বেরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করে ২২৪ জনকে চূড়ান্ত পর্বে নেওয়া হয়। দুই বিভাগে চারটি করে গ্রুপ থেকে মোট ৮০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছত্রিশ জুলাই আন্দোলনের পরও দেশের আনাচে-কানাচে কালচারাল ফ্যাসিস্টরা বিভিন্নভাবে অবস্থান করছে। তাদের কারণে বাংলাদেশ আজও হুমকির মুখে। তাদের মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। চূড়ান্ত বিপ্লবের বিজয় লাভের জন্য সাংস্কৃতিক বিজয় অনস্বীকার্য। এ যোগ্যতা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
কবি মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহবুব মুকুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পী সাইফুল্লাহ মানছুর। তিনি বলেন, মানুষের সংস্কৃতির ক্ষুধা মিটিয়ে দিয়েছেন মহান আল্লাহ। রবের দেওয়া সেই সংস্কৃতি ছাড়া সত্যিকারের ক্ষুধা নিবারণ হবে না। তাই সুস্থ সংস্কৃতি যেন কোনোভাবেই কলুষিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শিল্পী তাফাজ্জল হোসেন খান বলেন, শিরকের অন্যতম জায়গা হচ্ছে নাতে রাসুল লেখা ও গাওয়া। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে গান লিখতে বা গাইতে গিয়ে অনেকে অসচেতনভাবে শিরক করে বসেন। তাই সুস্থ সংস্কৃতিচর্চায় শিরকমুক্ত নাত লেখা ও গাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল আলম, প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, কবি ও সম্পাদক জাকির আবু জাফর, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং ড. মোবারক হোসাইন। এ ছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, ১৩টি জোনের মাধ্যমে চারটি গ্রুপে (ক, খ, গ ও ঘ) প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ২২৪ জনকে বাছাই করে চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন করা হয়। ক্বেরাত ও হামদ-নাত—দুই বিভাগে চারটি করে গ্রুপ থেকে মোট ৮০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
