Published on
:
2 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর আগে বিরিয়ানি কোন দোকান থেকে খাবেন, তার ‘নিদান’ দিয়েছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বিরিয়ানির স্বাদ গ্রহণে আপত্তি না থাকলেও সংখ্যালঘু দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনবেন না বলে কার্যত ফতোয়া জারি হয়েছিল শিলিগুড়িতে। পুজোর আগে যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাঁচ দিনের পুজো শেষে দেখা যাচ্ছে, ফতোয়া উড়িয়ে সংখ্যালঘু দোকান থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার ঢল নেমেছিল। শহরের একাধিক বিরিয়ানি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সবারই মোটামুটি একই কথা, পুজোয় বেশ জাঁকিয়েই ব্যবসা করেছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাননি হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতারা।
শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানি দোকান ও রেস্তোরাঁ মালিক পুজোর সময়ে ব্যবসা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বর্ধমান রোডে এক প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির দোকানের ম্যানেজার মহম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘ব্যবসা মোটামুটি ঠিকই হয়েছে। শহরের প্রায় প্রতিটি কোণে আমাদের গ্রাহক রয়েছে। আমাদের প্রতি আস্থা থাকায় তাঁরা এখানে খেতে এসেছেন। তবে প্রচুর ভিড় থাকায় অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।’ সেবক মোড় সংলগ্ন একটি বিরিয়ানি দোকানের মালিক মহম্মদ শাহিদ রাজা বলেন, ‘ব্যবসা ঠিকই ছিল। তবে এবারে শহরের বাইরে থেকে আসা গ্রাহকের সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। অবশ্য ক্রেতাদের ভিড়ে দোকান প্রতিদিনই বিকেল চারটে থেকে সকাল ছটা পর্যন্ত খোলা রাখতে হয়েছে।’
হিলকার্ট রোডের অন্য এক রেস্তোরাঁর মালিক মহম্মদ সামসুল হক বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ব্যবসা খুব বেশি না হলেও মন্দ হয়নি।’ পুজোয় রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষ কিন্তু কোনও বাছবিচার না করেই বিরিয়ানি খেয়েছেন। সেবক রোডের এক দোকান মালিক তানিয়া শর্মা বলেন, ‘সারা বছর আমাদের দোকানে ফাস্টফুড বিক্রি হয়। পুজোর সময় সাহস করে এবার আমরা বিরিয়ানি বানিয়েছিলাম। প্রায় প্রতিদিনই রাত বারোটা-একটার মধ্যে সমস্তটাই শেষ হয়ে গিয়েছে।’ নিজেকে বিরিয়ানি লাভার দাবি করে কলেজ পড়ুয়া পূজা জয়সওয়াল বলেন, ‘পুজোর দিনগুলিতে বিরিয়ানির গন্ধ নাকে এলে আমার পক্ষে তা না খেয়ে থাকা মুশকিল। দোকানের নাম বা মালিকের পরিচয় জেনে বিরিয়ানি খাইনি।’ প্রায় একই কথা শোনা গিয়েছে অর্পিতা সাহা, ভজন বর্মন, শুভাশিস দে’র মুখে।
পোস্টার সাঁটানোর পর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাস বলেছিলেন, ‘কোনও ফতোয়া দেওয়া হয়নি, মানুষের কাছে নির্দিষ্ট কিছু আবেদন করা হয়েছে।’ তবে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য শুক্রবার তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফোনে সাড়া দেননি হিন্দুত্ববাদী আরও একাধিক সংগঠনের নেতারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের এক নেতা বলেন, ‘কোনও দোকানের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি কেউ করেনি। এর আগে শহরের বিভিন্ন দোকানে প্রশাসন হানা দিয়ে বাসি খাবার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পেয়েছে। সেজন্য হয়তো কেউ দোকানের পরিবেশ দেখে বিরিয়ানি কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন।’
