পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আগামী বছরের জুনের মধ্যে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের বর্তমান কাজের ধাপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর একটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি প্লাস জেনারেশন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করেই প্রকল্পটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এর বহুমুখী সুবিধা কাজে লাগাতে জেলা পর্যায়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রথম সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপপুর প্রকল্পের সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ এবং মো. আব্দুল গফুর।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএমটি
