সংবাদ · টেক
পলকের নির্দেশে বন্ধ হয় ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট
১২/১০/২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে দেশের ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধের ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।এ সিদ্ধান্তের সময় বিটিআরসির এক উচ্চপর্যায়ের অনলাইন সভায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রতিমন্ত্রী পলক।রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ। সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে তিনি এই সাক্ষ্য প্রদান করেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল সোমবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন।জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, "১৪ জুলাই দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন।"ওই সময় তাকে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেটওয়ার্ক সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই পলকের নির্দেশে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।সাক্ষী আরও জানান, ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধের পর গ্রাহক ভোগান্তি বাড়লে "২৫ জুলাই পলকের নির্দেশে মোবাইল অপারেটরগুলোকে ফোরজি ভয়েস বা ভোল্টে (VoLTE) সেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।"ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিটিআরসির এই কর্মকর্তা জানান, ২৮ জুলাই বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় পলক উপস্থিত গোয়েন্দা প্রধান ও অপারেটরদের সামনেই ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ দেন, তবে ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার আদেশ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে ৩১ জুলাই পলকের নির্দেশে ক্যাশ সার্ভারগুলো পুনরায় সচল করা হয়। মাহদী আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, "দেশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ এনটিএমসি দিয়েছিল; এমন বক্তব্য আমি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করি না।"আদালতে তিনি ইন্টারনেট বন্ধ, সীমিতকরণ ও চালুর বিষযে তৈরি হওয়া বিভিন্ন নথিতে নিজের এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সঠিকভাবে শনাক্ত করেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗