সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তিকে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়।
মামলায় এজাহার নামীয় আসামী করা হয়েছে দশজনকে। এছাড়া ২০০ থেকে২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দাখিল করেন।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইমএম শহীন বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফা গণপিটুনি দিলে সে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দাখিল করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে প্রথম দফা গণপিটুনির খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। পরে রাত ৯ টার দিকে তৌহিদী জনতা নামে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে সেখানে দ্বিতীয় দফা গণপিটুনি দেয়।পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেলে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
গ্রেফতারের স্বার্থে এখনই সকল আসামীদের নাম পরিচয় বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলায় প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী নামক ব্যক্তি। যিনি ফেসবুকে লাইভ করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তৌহিদী জনতা জড়ো করেছিলেন।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত. শামছুর রহমানের ছেলে। প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী একই উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পূর্বে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌহিদী জনতা নামে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের উপর হামলা চালানো হয়। বিষপান করে অসুস্থ হয়ে শামীম সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দেবহাটার হুজুর ফজলুল হক আমিনী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ফেসবুকে লাইভ করে জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তার অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা শুরু হয়।
শামীম নিহত হওয়ার পর ফজলুল হক আমিনী আগেই জানিয়েছিলেন, আল্লাহ্ রাসুল ও আমাদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিল। প্রতিবেশী বা তার সঙ্গে কেউ কথা বললে ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলতো। তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।
তবে নিহতের ছোট ভাই সাগর সানা জানিয়ে ছিলেন, আমরা পাঁচ ভাই, শামীম চতুর্থ। সে মাদরাসা থেকে কামেল পাশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছে। দুটো সন্তান আছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে মানুসিক রোগী হয়ে গেছে। সুস্থ না, অসুস্থ মানুষ। সে মানুসিক ভারসম্যহীন। কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা বলে। ঔষধপত্র খাচ্ছে। সে যদি কিছু বলে থাকে তাহলে তাকে আইনে বিচার করতো, একটা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেললো ?
তিনি আরও বলেন, শামীমের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয়। সে সময় স্ত্রীর সঙ্গে কি বলছে সেই সময়ে আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বিষপান করে আত্নহত্যা করতে চেয়েছিল। এরপর কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন ছিল। সেখানে গিয়ে গণপিটুনি দেয়, এরপর হাসপাতাল ঘেরাও করে সেখানেও গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছে আমার ভাইকে।
