সাইবার হামলা ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের সতর্কতা জারি করেছে জাপান। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে গাড়ি শেয়ারিং সেবা টাইমস কারের প্রায় ৬৬ লাখ গ্রাহক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যও রয়েছে। জাপানের লসন কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন, দাইওয়া সিকিউরিটিজ ও পুরোনো পণ্য বিক্রেতা বুকঅফের মতো প্রতিষ্ঠানও তথ্য ফাঁসের কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি দপ্তর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
জাপানের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী তোশিহিরো ফুরুকাওয়া বলেন, সাইবার হামলার সংখ্যা ও ধরন দুটিই বাড়ছে। হামলার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠছে, যা মানুষের জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলছে। জাপানের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দপ্তর সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা পৌঁছে দিতে বলেছে। জাপানি সংবাদপত্র ইয়োমিউরি ও টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রোর এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছর দেশটিতে ইতিমধ্যে ৫০০টির বেশি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৭৩ এবং ২০২৪ সালে ৫০৩।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই জাপানে গত বছরের পুরো সময়ের তুলনায় বেশি সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বরে ৮৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যা আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিবরণ, যোগাযোগের তথ্য ও অন্যান্য ব্যক্তিগত উপাত্ত। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় চুরি, অর্থ স্থানান্তরে প্রতারণা ও অন্যান্য জালিয়াতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে হ্যাকাররা সফটওয়্যারের দুর্বলতা খোঁজা এবং ভুয়া বার্তা তৈরি সহজে করতে পারছে। ফলে হামলা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সরকার পাসওয়ার্ড পুনর্ব্যবহার না করা, সম্ভব হলে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং সন্দেহজনক ই-মেইল ও বার্তা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতেও সাইবার হামলার উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির নয়টি ব্যাংক ও দুটি বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য এআই-সংশ্লিষ্ট হামলা তদন্ত করছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সেখানে ১ হাজার ২৩৬টি সাইবার ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। সূত্র: ইন্ডয়া টুডে
কে
