এভাবেও ফিরে আসা যায়! দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা করলেন ফ্লাই দুবাই উড়ানের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। জানিয়ে দিলেন, শিগগিরি তিনি আবার বিমান ওড়াবেন। সেই সঙ্গেই জানাচ্ছেন, সেদিনের কথা মনে পড়লে তিনি এখনও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
ঠিক কী বলেছেন তিনি? এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ”আমি একজন সাধারণ মানুষ মাত্র। ইনশাল্লা, খুব শীঘ্রই আমি কাজে ফিরে আসব।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, ”যখন প্রথমবার আমার উপর আঘাত করা হয়, ভেবেছিলাম হয়তো বিমানের কাঠামোর কোনও অংশ আমার মাথার উপরে পড়েছে। এরপর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে, আর আমি (হামলাকারীকে) এক ঝলক দেখতেও পাই। আঘাতগুলো এমনই তীব্র ছিল, আমি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলাম।”
সূত্রের খবর, হামলার সময় স্মিতের মাথার খুলির একাংশ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। আরব আমিরশাহীতে নিয়ে যাওয়ার আগেই সৌদি আরবে তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারে মাথার খুলি পুনর্গঠন করেন চিকিৎসকরা। এরপরেও ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন স্মিত। তবে আপাতত চিকিৎসকদের তীক্ষ্ণ নজরাধীন রয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘বীর’ স্মিতের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘আপনার কাজে দেশ গর্বিত, যখন প্রয়োজন একটি ফোন করুন’, বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পালটা চোখের জলে ভাসেন ভারতীয় পাইলট। কঠিন পরিস্থিতিতে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি, সেকথা মনে করিয়ে প্রশংসায় ভরান মোদি।
পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে মোদি বলেন, “আপনার অসীম সাহসের কাজে দেশ গর্বিত।” পালটা স্মিত বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব।” প্রত্যুত্তরে মোদি বলেন, “আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৩৯ বছরের স্মিত আরও জানান, যখনই তিনি কোনও বিপদে পড়েন, তখনই হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার বিমানে হামলার সময়েও তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন।
