আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা ও দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ দিয়ে দেশে অরাজকতা, বোমাবাজি ও নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়। এ বিষয়ে সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে দিবারাত্র সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি’ আয়োজিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ছিল। পাচার করা অর্থের বড় অংশ বিদেশে চলে গেলেও কিছু অর্থ দেশের ভেতরে এখনো রয়ে গেছে। সেই কালো টাকা ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের সব পরিকল্পনা একে একে নস্যাৎ করা হচ্ছে।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংক-বীমাসহ দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। ঋণের নামে মূলত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
রিজভী আরও বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও বর্তমান সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণদের অসীম সাহসিকতার কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। তাঁদের এই অবদান রাষ্ট্র ও জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ আবহমানকালের ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না।’
বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আউয়ালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দ।
