এই ঘটনা সিনেমাকেও হার মানাবে! সাড়ে পাঁচ বছরের প্রেম মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা যুগলের। সম্প্রতি যুবতীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। এই নিয়ে প্রেমিক যুবকের সঙ্গে তীব্র মনোমালিন্য হয় তাঁর। এরপর দু’জনে মিল আত্মহত্যা করবেন বলে ঠিক করেন। সেই মতো ১০০০ ফুট উঁচু এক পাহাড়ে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মত বদলান প্রেমিক। যদিও ততক্ষণে পাহাড়ের কিনার থেকে গভীর খাদে ঝাঁপ দিয়েছেন যুবতী। বলা বাহুল্য ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ জানিয়েছে, যুবক নিজেই থানায় গিয়ে প্রেমিকার খাদে পড়ে যাওয়ার কথা জানান। যদিও এরপরেই বাঁক নেয় ঘটনা। প্রশ্ন ওঠ, আদৌ কি যুবতী ঝাঁপ দিয়েছিলেন না কি তাঁকে ধাক্কা মেরে পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম তরন্নুম নাইক। গারগোটি এলাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। ভুদরগড তালুকের নাইকওয়াডী জলপ্রপাতের নিচে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তরন্নুমের মৃত্যুর কথা স্থানীয় থানায় গিয়ে জানান প্রেমিক শ্রীপাদ বডর। প্রাথমিকভাবে তাঁর কথা অনুযায়ী তদন্ত এগোচ্ছিল। কিন্তু যুগলের ফোন উদ্ধার হওয়ার পরে পুলিশের সন্দেহ হয়। মেসেজে উভয়ের কথোপকথনে আত্মহত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনও তথ্য মেলেনি। বরং প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় তা নিয়ে অশান্তি করেন শ্রীপাদ।
এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় শ্রীপাদ বডরকে। তারন্নুম নিজে ঝাঁপ দিয়েছিলেন না কি তাঁকে পাহাড়ের কিনারা থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সত্যিটা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের বক্তব্য, নির্জন ঘটনাস্থলে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। এর ফলে সেখানে ঠিক কি ঘটেছিল তা এখনও ধোঁয়াশায়।
