মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না ঠিকাদারেরা। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসাসামগ্রী কেনা না হওয়ায় হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও।
এদিকে, টেন্ডার হ্যাকের ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ১৫ দিনের ছুটিতে গেছেন জেলা সিভিল সার্জন মো. শরীফুল আবেদীন কমল।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। অনলাইনে টেন্ডার আহ্বানের পরপরই ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেন্ডারটি বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবার ই-টেন্ডার আহ্বান করে। কিন্তু এবারও একইভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদারেরা এতে অংশ নিতে পারছেন না।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়েছিল। সেসব সামগ্রীর মজুত গত জুনেই শেষ হয়ে যায়। নতুন করে কেনাকাটা না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বক্তব্য দিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান জানান, টেন্ডার হ্যাকের ঘটনায় কোনো জিডি বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই জেলা সিভিল সার্জন মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে গেছেন।
এমএস/
