মাঠের বাইরে দুর্গম পাহাড়ে ফুল হয়ে ফুটবেন মেসি
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ: আপডেট:
চলতি মাসে আর্জেন্টিনা জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন সর্বকালের সেরাদের অন্যতম একজন লিওনেল মেসি। কোটি দর্শক-সমর্থকদের কাঁদিয়ে শেষ করেছেন ২০ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। অর্জনের ঝুলিতে জমিয়ে গেছেন অসংখ্য পুরস্কার, ট্রফি এবং সম্মাননা। কিছুদিন আগে বুয়েন্স আয়ার্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও দিয়েছে। তবে এবার এলএমটেনের প্রতি আবেগ যেন সব সীমানাই ছাড়িয়ে গেল। লাতিনের আন্দিজ পর্বতমালায় বিজ্ঞানীরা এক উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছেন, যাতে ফোটে আকাশী-নীল ফুল। সেই ফুলের নাম তারা রাখলেন মেসির নাম অনুসারে।
ফুটবল মাঠের জাদু ছড়িয়ে গেল তাই আন্দিজ পর্বতমালার দুর্গম প্রান্তরে। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় ওই উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছেন, যা আগে বিজ্ঞানের অজানা ছিল। লিওনেল মেসির সম্মানে তারা এর ফুলের নাম দিয়েছেন ‘সালভিয়া মেসি’।
গল্পটি কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গবেষণাগারে শুরু হয়নি। সূচনা হয়েছে সিটিজেন সায়েন্স (সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিজ্ঞানচর্চা) এবং প্রকৃতি বিষয়ক তথ্যের বৈশ্বিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার কৃষিবিদ রোলান্দো উরিয়া একজন প্রখ্যাত উদ্ভিদ চাষি ও প্রজননবিদ, লন্ডনের রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রকৃতিপ্রেমী। তিনি অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করেন পেরুর উচ্চভূমিতে জন্মানো একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদে। যা কোন নথিবদ্ধ প্রজাতির সাথে মিলছিল না।
সন্দেহ থেকে তিনি পেরুর বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী পাউল গঞ্জালেস আর্সে এবং জীববিজ্ঞানী জ্যা কাপচা রামোসের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা সবাই একটি দল গঠন করেন এবং আনুষ্ঠানিক গবেষণার কাজ শুরু করেন। তারা ঐতিহাসিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেন, বৈজ্ঞানিক সংগ্রহশালায় থাকা নমুনাগুলো নিয়ে গবেষণা করেন এবং পর্বতমালাটির সবচেয়ে দুর্গম ঢালগুলোতে কয়েক বছর ধরে একাধিক অভিযাত্রী দল পরিচালনা করেন।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে গবেষণার পর একটি দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন তারা। এটি দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা একটি শক্তিশালী গুল্ম, যা আগে কখনও কোন মানুষ শ্রেণিবদ্ধ করেননি। এই তথ্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ফাইটোতাক্সাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন সন্ধান পাওয়া কোন উদ্ভিদের নামকরণ খেয়ালখুশি মতো করা যায় না, এরজন্য কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। যখন কোন অসাধারণ ব্যক্তির সম্মানে কোন প্রজাতির নামকরণ করা হয়, তখন বিজ্ঞানীরা লাতিন ব্যাকরণের একটি নিয়ম অনুসরণ করেন। যেখানে নামের শেষে একটি ইংরেজি শব্দ ‘আই’ যুক্ত করা হয়। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই উদ্ভিদটি মেসির বা তার। সেজন্য ‘সালভিয়া মেসি’ ইংরেজিতে বানান করার ক্ষেত্রে মেসি নামের শেষে দুটি ‘আই’ যোগ করা হয়েছে।
এই উদ্ভিদের মধ্যে অনবদ্য নান্দনিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। যখন এটি ফোটে, তখন পাপড়িগুলোতে সাদা ও হালকা নীল রঙের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। ঠিক সেই রঙ, যা আর্জেন্টিনার জার্সির রং। প্রকৃতি যেন অজান্তেই উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সাদৃশ্য চমৎকার এক দৃশ্যপট। যেখানে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের সঙ্গে মিলেমিশে আছে আন্দিজ পর্বতমালার জীববৈচিত্র্য।

‘সালভিয়া মেসি’ সব জায়গায় জন্মায় না। গবেষকরা দেখেছেন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট পার্বত্য অঞ্চলে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে টিকে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ বা ২,৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ঝোপঝাড়পূর্ণ ঢালু এলাকায় এদের দেখা মেলে।

এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এবং দাবানল-জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়ায়, বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ‘সালভিয়া মেসি’র আনুষ্ঠানিক পরিচিতি কেবল দেশটির জন্য গর্বেরই নয়, বরং এটি লিওনেল মেসির অবিসংবাদিত ক্যারিয়ারের প্রতি যেন এক স্বীকৃতি।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
