বাংলাদেশের নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন নেতৃত্বের খোঁজ শেষ হলো অভিজ্ঞতার হাত ধরেই! দীর্ঘদিন দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে থাকা নাহিদা আক্তার এবার সামলাবেন নেতৃত্বের দায়িত্ব। তার সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব কাঠামোয় যুক্ত হয়েছেন ব্যাটিংয়ের আরেক নির্ভরযোগ্য মুখ সোবহানা মোস্তারি। নিগার সুলতানা জ্যোতির পর এই দুই ক্রিকেটারের কাঁধেই টি-টোয়েন্টি দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী এক বছরের জন্য নাহিদাকে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে বিসিবি। আজ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একই সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী সোবহানাকে করা হয়েছে দলের সহ-অধিনায়ক। বোলিং ও ব্যাটিং-দুই বিভাগ থেকেই নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন দলের অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার।
২৬ বছর বয়সী নাহিদার অধিনায়কত্ব পাওয়াটা তার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিও। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তার পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের হয়ে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনিই।
এখন পর্যন্ত ১১৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নাহিদার শিকার ১৩২ উইকেট। শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার অবস্থান উল্লেখযোগ্য। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোলারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তিনি। এবার বল হাতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পাশাপাশি মাঠে পুরো দলকে পরিচালনার দায়িত্বও সামলাতে হবে তাকে।
নাহিদার নেতৃত্বের সঙ্গী সোবহানা মোস্তারিও নিজের পারফরম্যান্সে ইতিমধ্যে আলাদা পরিচিতি গড়েছেন। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই ব্যাটার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ৭২টি টি-টোয়েন্টি। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রেখে জায়গা করে নিয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম অর্ধশতক করার কীর্তি গড়েছেন সোবহানা মোস্তারি। ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাত্র তিনজন। নিগার সুলতানা ও ফারজানা হকের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন সোবহানা। ব্যাটিংয়ের এই অভিজ্ঞতাই নতুন দায়িত্বে তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। অধিনায়ক নাহিদার সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে তার সমন্বয় দলের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, এমন প্রত্যাশা থাকতেই পারে।
নতুন নেতৃত্বের সামনে অবশ্য খুব বেশি অপেক্ষার সুযোগ নেই। আগামী ১২ থেকে ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি। এই প্রতিযোগিতাতেই নাহিদা ও সোবহানার নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে। নতুন দায়িত্বে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করে দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই হবে দেখার বিষয়।
জ্যোতির নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের নারী টি-টোয়েন্টি দল এখন নতুন পথচলার সামনে। একজন অভিজ্ঞ স্পিনার ও একজন আস্থাভাজন ব্যাটারের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বিসিবি। এখন সেই আস্থার প্রতিদান মাঠে দেওয়ার পালা নাহিদা-সোবহানার।
