Published on
:
3 min read
এই সময়: পশ্চিমবঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে টাটা গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সংস্থা টাটা পাওয়ার। রাজ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়তে ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায় টাটা পাওয়ারের সহযোগী সংস্থা ‘টাটা পাওয়ার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড’। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে টাটা পাওয়ারের কোনও শাখা সংস্থার এটিই হবে এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম বিদ্যুৎ প্রকল্প। এত দিন এ রাজ্যে মূলত বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা বা রুফটপ সোলার প্রকল্পেই বিনিয়োগ করেছে সংস্থাটি। এ বার বড় মাপের জমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পা রেখে রাজ্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছে তারা। বৃহস্পতিবার সংস্থার সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রবীর সিনহা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য জমি চেয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তাঁর কথায়, ‘প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই তিন-চারটি জায়গার সন্ধান দিয়েছে। তবে এত বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একলপ্তে বিপুল পরিমাণ জমি পাওয়া কঠিন। সে কারণে রাজ্যের একাধিক জায়গায় পৃথক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।’ সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হলদিয়া, বাঁকুড়া ও দুর্গাপুরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও জমির সন্ধান চলছে। এই অঞ্চলগুলি বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা। হলদিয়া ও দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে যেমন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, তেমনই বাঁকুড়া-সহ অন্যান্য এলাকায় গৃহস্থালির বিদ্যুতের চাহিদাও রয়েছে। উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলিতেও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফলে সেখানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থা।
শুধু বড় প্রকল্প নয়, রুফ টপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে টাটা পাওয়ার। গত এক বছরে রাজ্যে প্রায় ৬,০০০টি রুফটপ সোলার ব্যবস্থা বসিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে রাজ্যে তাদের বসানো মোট রুফটপ সোলার সিস্টেমের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২২,০০০ হয়েছে। তবে গুজরাট, অসম ও ওডিশার মতো রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সৌরবিদ্যুতের প্রসার এখনও অনেকটাই কম বলে মনে করছেন প্রবীর। আগামী তিন বছরে রাজ্যের তিন লক্ষ বাড়িতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর মতে, এই লক্ষ্যপূরণে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যেই সুপারিশ করা হয়েছে। এক কিলোওয়াট থেকে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন রুফটপ সোলার ব্যবস্থা রয়েছে তাদের, যা বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মাসিক বিদ্যুতের খরচ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
টাটা পাওয়ার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় বাঙ্গাও জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষে সারা দেশে শিল্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলির ব্যবহারের জন্য মোট তিন গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও দুই গিগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে আরও ডেটা সেন্টার এবং শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি জমি ও বিদ্যুৎ সংযোগের পরিকাঠামোর চাহিদাও বাড়বে। এই দুই ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ৮০০ মেগাওয়াট করে উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঙ্গা। বাকি লক্ষ্যমাত্রা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পূরণ হওয়ার আশা রয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুতের শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছেন বাঙ্গা। তাঁর মতে, রাজ্যে বড় মাপের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কিনতে যে খরচ করতে হয়, তা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম ও ওডিশার মতো রাজ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াটে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের সুবিধে যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে পান, তার জন্য রাজ্য সরকারকেও নিজস্ব ভর্তুকি চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তাঁর মত। তা না হলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রসার বাড়ানোর উদ্যোগের সুফল সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
