এইচ এ শরীফ, বোরহানউদ্দিন ॥
তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ভোলার বোরহানউদ্দিনে চালু হয়েছে স্কিল প্লাস একাডেমির কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রথম ধাপে তিনটি ব্যাচে ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিন উপজেলা সড়কের কুড়ালিয়া হাউজের সামনে অবস্থিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কিল প্লাস একাডেমির চেয়ারম্যান মাফরুজা সুলতানা। এ সময় বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী, ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী আজম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জসিমউদ্দীন খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, বিএনপি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেয়। তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আইটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনও জরুরি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথও সুগম করতে পারে।
স্কিল প্লাস একাডেমির চেয়ারম্যান মাফরুজা সুলতানা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের পর তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত ও বিস্তৃত হলে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বেকারত্ব মোকাবিলায় ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে।