ভারতের সীমান্তবর্তী অন্তত ২৮টি অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ তাদের ‘অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ’ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে; চীনের অস্বীকৃতিতে এই অকাট্য বাস্তবতা বদলে যাবে না।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং দাবি করেন, ভারত একতরফাভাবে ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে, যা চীন কখনোই মেনে নেয়নি। তাঁর দাবি, চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের এসব এলাকা ঐতিহাসিকভাবেই চীনের ভূখণ্ড। তাই, ভারতের কোনো পদক্ষেপই এখানে বৈধ বা কার্যকর হবে না।
চীনের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছে, ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের “অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য” অংশ। চীন যতবারই অস্বীকার করুক না কেন, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য কোনোভাবেই বদলে যাবে না।’ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও সীমানা নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
বিতর্কিত এসব অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ‘গোগরা’ ও ‘হট স্প্রিং’। এ ছাড়া রয়েছে আলিশা গিরি, কারুন পীর ও জোরাওয়ার পিকের মতো কৌশলগত পাহাড়, গিরিপথ ও হিমবাহ।
২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। ১৯৭৫ সালের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী সামরিক সংঘাত ছিল সেটি। ওই ঘটনায় ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হন। চীনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা যায়নি, যদি ভারতের গণমাধ্যমে চীনের চার সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে সেনা প্রত্যাহারে উভয় দেশ সম্মত হলেও সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চাপা উত্তেজনা রয়েই গেছে। নতুন মানচিত্র আর সীমান্ত এলাকা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হলো।
