নির্বাচনী প্রচারণায় যখন চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তাপ, তখন ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা গেল সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে মুখোমুখি হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী। হাসিমুখে কুশল বিনিময়ের পর একসঙ্গে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন তারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে এসে এ দৃশ্য দেখা যায়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন এ সৌজন্য বিনিময়ে অংশ নেন।
গাড়ি থেকে নেমে দুই প্রার্থী পরস্পরের দিকে এগিয়ে যান। এরপর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নির্বাচনী মাঠে যারা পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তাদের এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ উপস্থিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে প্রচার-প্রচারণা। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দুই দলের নেতাকর্মীরা। বক্তব্য ও প্রচারণায় উঠে আসছে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড এবং নানা অভিযোগ। সব মিলিয়ে আসনটিতে তৈরি হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ।
এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতির পরদিন দুই প্রার্থীর আলিঙ্গন ও সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্য নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
এ সময় দেলাওয়ার হোসেনকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের মাঠে আজই তার সঙ্গে প্রথম দেখা হলো। জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “এটা আমার দুর্ভাগ্য, না তোমার সৌভাগ্য!” তখন দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “দুজনেরই সৌভাগ্য, দুজনেরই দুর্ভাগ্য হতে পারে, ভাইয়া। দেখা করার যে জায়গাগুলো, সেসব জায়গায় আপনি থাকেন না।”
জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “শোনো দেলাওয়ার, তোমাকে বহু আগেই ভাইয়ার (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, তুমি প্রতিদিন আমার বাসায় চা খেতে আসবে। তুমি আসো না, আমি কী করব? তুমি শুধু দূরে দূরে থাকো।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে দুই প্রার্থী পরস্পরের হাত ধরে একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। সভা শেষে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তারা।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী ও হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন। ৭ অক্টোবর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়। ওই শূন্য আসনেই আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
