একা থাকার মধ্যে একধরনের অদ্ভুত স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি যা খুশি খেতে পারেন, নিজের মতো করে ঘর সাজাতে পারেন এবং কাউকে কোনো জবাবদিহি না করেই অলস সময় কাটানোর বিলাসিতা উপভোগ করতে পারেন। তবে এই একই স্বাধীনতা কখনো কখনো ভীষণ ভারী মনে হতে পারে। বিশেষ করে যখন আপনার দিনটি খারাপ যায়, অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা কোনো এক সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ফাঁকা ঘরে ফিরে আসেন। একা থাকা মানে শুধু আত্মনির্ভরশীল হওয়া নয়, বরং একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করতে শেখাও।
‘এইচটি লাইফস্টাইল’-এর ধারাবাহিক আয়োজন ‘থিংস নোবডি টেলস ইউ অ্যাবাউট’-এর এই পর্বে একাকী জীবন কেমন হয়, তা বিশ্লেষণ করেছেন পরামর্শদাতা মনোবিজ্ঞানী, লেখিকা ও লাইফ কোচ দামিনী গ্রোভার।
দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় ক্লান্তি আসতে পারে
সবকিছু একা সামলানোর পেছনে থাকে এক অদৃশ্য মানসিক চাপ। কী খাবেন তা ঠিক করা, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, কল চুইয়ে পানি পড়া ঠিক করা কিংবা অসুস্থতার দিনগুলোতে পাশে কেউ থাকা। এই ছোটখাটো বিষয়গুলোর মানসিক বোঝা ভাগ করে নেওয়ার কেউ থাকে না।
আরও পড়ুন
দামিনী বলেন, ‘যখন সব দায়িত্ব আপনার কাঁধেই এসে পড়ে, তখন প্রতিটা সিদ্ধান্ত এমনকি সবচেয়ে ছোটটাও নেওয়া মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।’
নিস্তব্ধতার সঙ্গে সখ্য গঠন
একাকী জীবনে নিস্তব্ধতার সঙ্গে আপনার একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। দামিনীর মতে, শুরুতে পুরো ঘর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকাটা বেশ দারুণ মনে হয়। কিন্তু এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন সারাদিনের ধকল শেষে ঘরে ফিরে আপনি আবিষ্কার করবেন এটি ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। মাঝেমধ্যে আমাদের খুব গভীর কোনো আলোচনারও প্রয়োজন হয় না, কেবল আশেপাশে পরিচিত মানুষের উপস্থিতি থেকে যে স্বস্তি পাওয়া যায় আমরা সেটাই মিস করি।
আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি
বিস্ময়কর হলেও সত্য, একা থাকা আমাদের নিজেদের সঙ্গে এক নতুন উপায়ে পরিচয় হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যখন আমরা ক্রমাগত চারপাশে লোকজনের মাঝে থাকি না, তখন আমরা আমাদের চিন্তা, আবেগ, অভ্যাস এবং আচরণের ধরন সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠি।
দামিনী বলেন, ‘অনেকের জন্য এটি আত্ম-সচেতনতা বা নিজেকে জানার একটি বড় সুযোগ হয়ে ওঠে। তবে যারা চিরকাল ব্যস্ত ও হইচইপূর্ণ পরিবারে বড় হয়েছেন, তাদের জন্য শুরুতে এটি কিছুটা অদ্ভুত বা অচেনা ঠেকতে পারে।’
আমরা খুব কমই এই বিষয়ে আলোচনা করি যে ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘সহযোগিতা পাওয়ার ইচ্ছা’ দুটো পাশাপাশি চলতে পারে। একা থাকা উপভোগ করা মানে এই নয় যে আপনি কখনো একাকীত্বে ভুগবেন না, কারও সাহায্য চাইবেন না কিংবা কেউ এসে একটু খেয়াল রাখুক তা আশা করবেন না। স্বাবলম্বী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে সব সময় মানসিকভাবেও পুরোপুরি স্বাবলম্বী হয়ে থাকতে হবে।
তা সত্ত্বেও, নিজের পছন্দমতো একটি জীবন গড়ে তোলার মধ্যে এক অপরিসীম আত্মশক্তি নিহিত রয়েছে।
দামিনী উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি পদক্ষেপে চারপাশের মানুষের সঙ্গে সমঝোতা না করেই আপনি আবিষ্কার করতে শুরু করেন যে আপনি আসলে কী পছন্দ করেন, আপনার কাজের স্বাভাবিক ছন্দ কী এবং আপনার ঘর ও জীবনকে আপনি কীভাবে দেখতে চান।’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি বোঝা যে একা থাকা এবং একাকীত্বে ভোগা এক জিনিস নয়। আপনি একা থেকেও মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে পারেন, আবার জনাকীর্ণ মানুষের মাঝে থেকেও ভীষণ একা বোধ করতে পারেন।
তামান্না রুপা/
