কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে নিজের সবচেয়ে বড় ও তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘বায়োটেরোরিজম’ বা জৈব সন্ত্রাসবাদ ও ভয়াবহ সাইবার হামলা চালাতে পারে।
মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতার দাবি, শক্তিশালী এআই মডেলগুলো যাতে কোনো অপশক্তির হাতে পড়ে অপব্যবহৃত না হয় তা ঠেকানোর জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত বা কার্যকর কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ভুল বা ক্ষতিকর কোনো গোষ্ঠীর হাতে এই প্রযুক্তি পৌঁছালে তা দিয়ে বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া, জটিল সাইবার হামলা চালানো ও নজিরবিহীন কোনো নতুন জৈব অস্ত্র তৈরি করাও সম্ভব হতে পারে বলেও মনে করেন গেটস।
রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেছেন, “সামনের বছর আমরা এআইয়ের সবচেয়ে বড় রূপ দেখতে পাব, যা সাইবার হামলা।
“এই মুহূর্তে আসল বিপদটা এআই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা নয়। আমাদের অবশ্যই সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে, তবে বড় কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়ার মতো জায়গায় পৌঁছাতে আরও অনেক বছর সময় লাগবে।
“মূল সমস্যাটা হচ্ছে অপরাধী চক্র এআই ব্যবহার করছে, বিশেষ করে যেসব এআই মডেলে সব সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ফেলা সম্ভব। বর্তমানে ব্যবহারকারীদের সব সুরক্ষাব্যবস্থা বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
“কাজেই যখন খলনায়কদের হাতে সুরক্ষাহীন সাম্প্রতিকতম এআই মডেলগুলো পৌঁছে যাবে তখনই, বিশেষ করে আগামী এক বছরে সাইবারজগতে আমরা অপ্রীতিকর ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখে পড়ব।”
সম্প্রতি মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে সব ধরনের এআই মডেলকে এখনই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরে নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নাদেলার এমন সতর্কবার্তার পরই বিল গেটসের এই সতর্কবার্তা এল।
প্রযুক্তি উন্নয়নের একদম শুরুর ধাপ থেকেই এআই মডেলগুলোতে উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা যোগ করার জন্য এআই গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নাদেলা বলেছেন, প্রযুক্তিতে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ থাকতে হবে, যাতে মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী বা বিপজ্জনক কোনো আচরণ দেখা গেলে যে কোনো অনুমোদিত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে সেই এআই মডেল সাময়িকভাবে স্থগিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন।
গেল সপ্তাহের শেষদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নাদেলো লিখেছেন, “আমাদের অবশ্যই এমন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার আচরণ আমরা পর্যবেক্ষণ, যার সীমারেখা আমরা পরীক্ষা ও যার কর্মকাণ্ডকে আমরা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।
“গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন যে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ ভুল করতে পারে বা হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে। ফলে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মূল কাঠামো তৈরির সময় এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।”
২০২৬ সালে এআইচালিত সাইবার হামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআইয়ের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ল্যাবগুলো বলেছে, তাদের পরীক্ষামূলক বা শক্তিশালী এআই মডেলগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারের কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশের বেশ কিছু ঘটনা এরইমধ্যে ঘটেছে।
