Published on
:
3 min read
সপ্তমীতেই দশমীর ছায়া! চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে শ্রীপর্ণা পোদ্দারের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বৈদ্যবাটির মালিরবাগান এলাকার বাসিন্দারা। রবিবার সকাল থেকেই আত্মীয় পরিজনরা প্রিয় ‘সোনাই’-এর বাড়িতে ভিড় করেছেন। সকলের মধ্যে প্রাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতেন প্রাণচঞ্চল মেয়েটি, আজ তাঁরই নিথর শরীর বাড়িতে ফিরবে! ভাবতেই পারছেন না তাঁর আত্মীয়, প্রতিবেশীরা। মালিরবাগানের পোদ্দার বাড়ি জুড়ে আজ শুধুই নিস্তব্ধতা।
ছোট থেকেই মেধাবী ও প্রাণবন্ত ছিলেন শ্রীপর্ণা। নার্সিং পাশ করেন। বর্তমানে রাজারহাটের টাটা ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। শনিবার কর্মস্থল থেকেই চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু উৎসবের আনন্দ দেখতে গিয়ে যে এ ভাবে প্রাণ হারাতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি কেউ।
এক নজরে
চোরবাগানে মৃত্যু: পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বৈদ্যবাটির মালিরবাগানের বাসিন্দা শ্রীপর্ণা পোদ্দার।
পেশায় নার্স: নার্সিং পাশ করে রাজারহাটের টাটা ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি।
সকলের প্রিয় সোনাই: ছোট থেকেই মেধাবী ও প্রাণবন্ত শ্রীপর্ণাকে ভালোবাসতেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ স্বজনেরা: শ্রীপর্ণার বড় হওয়া যাঁদের চোখের সামনে, তাঁরা ভাবতেই পারছেন না এই প্রাণোচ্ছ্বল মেয়ের এমন পরিণতি হতে পারে।
পুজোর অনুষ্ঠান বাতিল: শ্রীপর্ণার মৃত্যুর শোকের আবহে মালিরবাগানের পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোনাইয়ের এমন খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন তাঁর ‘জেম্মা’ ভবানী দাস, এক সময়ে বাড়ির ভাড়াটে রুমা মিস্ত্রিরা। সকলেই ডুব দিচ্ছেন স্মৃতির পাথারে। ভবানী দাস। ছোট থেকেই শ্রীপর্ণাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, বাড়ি ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে পড়াশোনা ও আঁকা শেখানোর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দুঃসংবাদ পেয়েই ছুটে এসেছেন শ্রীপর্ণাদের বাড়িতে।
কান্নাভেজা চোখে ভবানী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ওকে স্কুলে নিয়ে যেতাম, নিয়ে আসতাম। এই ঘটনা শোনার পরে যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল। সঠিক খবর জানতে বিভিন্ন মানুষের কাছে ছুটে গিয়েছি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ওর পড়াশোনা, আঁকা সবটাই আমি দেখেছি। আমাকে ছাড়া ও চলতেই চাইত না। যেখানে যেত, বলত, ‘জেম্মা নিয়ে যাবে’।’
শ্রীপর্ণাদের বাড়িতে কয়েক বছর ভাড়া ছিলেন রুমা মিস্ত্রি। শ্রীপর্ণার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনিও ছুটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘খুব ভালো মেয়ে ছিল। এলাকার সকলের সঙ্গে মেয়েটা ভালো ব্যবহার করত। ও যে এ ভাবে চলে যাবে, তা আমরা ভাবতেই পারিনি। আমাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু নিজের বৌদির মতোই দেখত। গত রাতে খবরটা শোনার পর নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি।’
রবিবার সকাল থেকে মালিরবাগান এলাকায় পোদ্দার বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়। এ পাড়ার পুজো এ বার ৭১ বছরে পা দিল। খুব হৈহৈ করে পুজো শুরুও হয়। তবে প্রথম সপ্তমীর সন্ধেয় যে ঘটনা ঘটল, তার পরে আর আনন্দ-উৎসবে মন নেই পাড়ার লোকজনেরও। শ্রীপর্ণার এ ভাবে চলে যাওয়ায় শোকের আবহে পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে পুজো হলেও বাকি সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব পাল।
উৎসবের আলোয় যখন চারদিক ঝলমল করছে, তখন বৈদ্যবাটির মালিরবাগানে শুধুই অন্ধকার আর শোক। পাড়ার সকলের প্রিয় সোনাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া যেন সপ্তমীর আনন্দের মাঝেই নামিয়ে এনেছে বিসর্জনের বিষাদ।
FAQs
১. শ্রীপর্ণা পোদ্দার কে ছিলেন?
শ্রীপর্ণা পোদ্দার বৈদ্যবাটির মালিরবাগানের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি নার্সিং পাশ করে রাজারহাটের টাটা ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পরিচিতদের কাছে তিনি ‘সোনাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।
২. কী ভাবে মৃত্যু হয় শ্রীপর্ণা পোদ্দারের?
শনিবার কর্মস্থল থেকে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। সেখানে পদপিষ্টের ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
৩. শ্রীপর্ণার মৃত্যুতে কী বলছেন পরিচিতরা?
ভবানী দাস শ্রীপর্ণার ছোটবেলার দেখাশোনা করতেন। তাঁকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, বাড়ি ফিরিয়ে আনা এবং পড়াশোনা ও আঁকা শেখানোর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। শ্রীপর্ণা তাঁকে ‘জেম্মা’ বলে ডাকতেন।
৪. শ্রীপর্ণার মৃত্যুতে মালিরবাগানের পুজোয় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
শ্রীপর্ণার মৃত্যুর শোকের আবহে পাড়ার পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ম মেনে পুজো চলবে বলে স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব পাল জানিয়েছেন।