সরকার নির্ধারিত কম সুদের কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকের হাতে না পৌঁছে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে বিতরণ করায় সুদের হার বেড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এতে ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে অনেক কৃষক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে কৃষিঋণ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ব্যাংকগুলো পরিচালন ব্যয় কমাতে এনজিওর ওপর নির্ভর করছে, যার মাশুল দিতে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ব্যাংকগুলো মোট ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। তবে নজরদারির অভাব ও চড়া সুদের চাপে এই বিতরণের ৪২.৩৮ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির অমানুষিক চাপ সামলাতে গিয়ে কৃষকেরা গবাদি পশু থেকে শুরু করে সংসারের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষি খাতের সুরক্ষা ও কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ পাওয়ার পদ্ধতি আরও সহজ করা জরুরি।
