ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। চাপ বৃদ্ধির পরবর্তী কৌশল স্থির করতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জোটের এমপিদের চা চক্রে আমন্ত্রণ জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই বৈঠক সেরেই সাংবাদ সম্মেলন করে করে বিরোধীরা। এ সময় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি তা দেশের জাতীয় রাজধানী দিল্লি থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর এই আন্দোলন থামবে না, বরং আরও
গতিশীল হবে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জ্ঞানেশদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিষয়টি খোলাসা করতে চাননি। রাহুল বিরোধী-ঐক্যতেও জোর দিয়েছেন বারবার।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-এর মহুয়া মাজি, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক, আনন্দ ভাদুরিয়া ও মহিবুল্লাহ নদভী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের এমএ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা ও পি সন্তোষ কুমার, আইসার প্রধান নেহা বোরা, সিপিআই(এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ (মমতাপন্থি)।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গ,ে সনিয়া গান্ধী এবং কেসি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশসহ অন্যরা। আরও ছিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ।
তেজস্বী যাদব বলেন, আন্দোলনকারীদের ভয়েই যন্তর মন্তরের স্থান পরিবর্তন করেছে প্রশাসন। মহাত্মা গান্ধী, লোহিয়া, ভগত সিং ও কার্পূরী ঠাকুরের নাম স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা যে কোনো বলিদান দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ‘ভোট চুরি’ ও স্বশাসিত সংস্থাগুলোকে হাইজ্যাক করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
এনসিপি (এসপি) এমপি সুপ্রিয়া সুলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেন। আম্বেদকর সংবিধান ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদ জানান তিনি। বলেন, জাতীয় রাজধানী থেকে শুরু করে একদম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে দাবি করেন, বিগত চার দিনে সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, দেশের মানুষ সচেতন হয়েছেন এবং তারা এই ‘ভোট চুরি’ ধরে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি সাগরিক ঘোষ সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করে দিচ্ছেন। জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা পর্যন্ত দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন অসম্ভব। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বাংলা ও বিহারে বড় মাপের ‘ভোট চুরি’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারিত করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করা পর্যন্ত বিরোধী জোটের এই যৌথ সংগ্রাম থামবে না।
যন্তর মন্তরে গিয়ে ফের আটক সৌরভ ও আশুতোষ : ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে মঙ্গলবার সকালে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তালাবদ্ধ ফটক টপকে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাদের আটক করা হয়।
আশুতোষ রাঙ্কা এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ ও অজিঙ্ক শিন্ডে যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তারা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন ও আটক করেন।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌরভ ও আশুতোষের সঙ্গে আরও অন্তত ১০ জন ছিলেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।’
সেখানকার একটি ভিডিওতে আশুতোষ রাঙ্কা ও অন্যদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ (ভারত মায়ের জয়) ও ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’ (জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করুন) স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পরে এক্সে এক পোস্টে সৌরভ দাস জানান, তাদের জাফরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এটি (যন্তর মন্তর) পুনরুদ্ধার করেছি।’ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় পতাকা হাতে ককরোচরা আজ (গতকাল) ভোরে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।’ পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা— এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। গত রবিবার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।
যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান।
এ নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি পুলিশ বলেছে, এবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে হলে এ তিনটি জায়গার কোনো একটি বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ সেন্ট্রাল বা মধ্য দিল্লির কোথাও আর বিক্ষোভের অনুমতি থাকল না।
চলতি বছরের জুন থেকে যন্তর মন্তর ভারতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এসব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিজেপি। ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপির ডাকে গড়ে ওঠা বিক্ষোভের মুখে ভারতের সে সময়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিলের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় এক্সে দিপকে লেখেন, ‘তারা নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিল করেছে। হ্যাঁ, এটি আর প্রতিবাদস্থল নয়। কারণ ‘কাপুরুষ স্বৈরশাসক’ এটিকে এমনিতেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে!’
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ‘ভোট চোর, গদি চোর’ বলে স্লোগান দেন। কলকাতার রাজাবাজারে প্রতিবাদ সভা করেন তৃণমূল নেতারা। কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনসহ দলীয় নেতারা এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনে মাঠ ভাড়া নিতে হবে : বিক্ষোভ ঠেকাতে এবার বিজেপি সরকার অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে। দিল্লিতে নির্ধারিত তিনিটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজন করতে হলে এখন থেকে গাঁটের অর্থ খরচ করতে হবে। শুধু অর্থ খরচের প্রশ্নই নয়, নতুন তিন জায়গায় বিক্ষোভকারীরা চাইলেই অবস্থান বা ধরনায় বসতে পারবেন না। জায়গা খালি আছে কিনা, সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। সেই অনুযায়ী বিক্ষোভ কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। সব বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠন সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মামলাও দায়ের হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রামলীলা ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) বিক্ষোভের আয়োজন করতে এই বছরের মাত্র তিনটি দিন তাদের জন্য বরাদ্দ হতে পারে। সেই তিনটি দিন হচ্ছে ডিসেম্বরের ২৯, ৩০ ও ৩১ তারিখ। কেননা বাকি সব দিন সেখানে কিছু না কিছু হচ্ছে।
আমাদের সময় ডেস্ক ষ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। চাপ বৃদ্ধির পরবর্তী কৌশল স্থির করতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জোটের এমপিদের চা চক্রে আমন্ত্রণ জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই বৈঠক সেরেই সাংবাদ সম্মেলন করে করে বিরোধীরা। এ সময় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি তা দেশের জাতীয় রাজধানী দিল্লি থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর এই আন্দোলন থামবে না, বরং আরও
গতিশীল হবে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জ্ঞানেশদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিষয়টি খোলাসা করতে চাননি। রাহুল বিরোধী-ঐক্যতেও জোর দিয়েছেন বারবার।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-এর মহুয়া মাজি, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক, আনন্দ ভাদুরিয়া ও মহিবুল্লাহ নদভী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের এমএ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা ও পি সন্তোষ কুমার, আইসার প্রধান নেহা বোরা, সিপিআই(এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ (মমতাপন্থি)।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গ,ে সনিয়া গান্ধী এবং কেসি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশসহ অন্যরা। আরও ছিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ।
তেজস্বী যাদব বলেন, আন্দোলনকারীদের ভয়েই যন্তর মন্তরের স্থান পরিবর্তন করেছে প্রশাসন। মহাত্মা গান্ধী, লোহিয়া, ভগত সিং ও কার্পূরী ঠাকুরের নাম স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা যে কোনো বলিদান দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ‘ভোট চুরি’ ও স্বশাসিত সংস্থাগুলোকে হাইজ্যাক করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
এনসিপি (এসপি) এমপি সুপ্রিয়া সুলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেন। আম্বেদকর সংবিধান ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদ জানান তিনি। বলেন, জাতীয় রাজধানী থেকে শুরু করে একদম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে দাবি করেন, বিগত চার দিনে সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, দেশের মানুষ সচেতন হয়েছেন এবং তারা এই ‘ভোট চুরি’ ধরে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি সাগরিক ঘোষ সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করে দিচ্ছেন। জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা পর্যন্ত দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন অসম্ভব। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বাংলা ও বিহারে বড় মাপের ‘ভোট চুরি’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারিত করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করা পর্যন্ত বিরোধী জোটের এই যৌথ সংগ্রাম থামবে না।
যন্তর মন্তরে গিয়ে ফের আটক সৌরভ ও আশুতোষ : ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে মঙ্গলবার সকালে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তালাবদ্ধ ফটক টপকে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাদের আটক করা হয়।
আশুতোষ রাঙ্কা এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ ও অজিঙ্ক শিন্ডে যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তারা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন ও আটক করেন।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌরভ ও আশুতোষের সঙ্গে আরও অন্তত ১০ জন ছিলেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।’
সেখানকার একটি ভিডিওতে আশুতোষ রাঙ্কা ও অন্যদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ (ভারত মায়ের জয়) ও ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’ (জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করুন) স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পরে এক্সে এক পোস্টে সৌরভ দাস জানান, তাদের জাফরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এটি (যন্তর মন্তর) পুনরুদ্ধার করেছি।’ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় পতাকা হাতে ককরোচরা আজ (গতকাল) ভোরে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।’ পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা— এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। গত রবিবার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।
যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান।
এ নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি পুলিশ বলেছে, এবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে হলে এ তিনটি জায়গার কোনো একটি বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ সেন্ট্রাল বা মধ্য দিল্লির কোথাও আর বিক্ষোভের অনুমতি থাকল না।
চলতি বছরের জুন থেকে যন্তর মন্তর ভারতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এসব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিজেপি। ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপির ডাকে গড়ে ওঠা বিক্ষোভের মুখে ভারতের সে সময়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিলের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় এক্সে দিপকে লেখেন, ‘তারা নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিল করেছে। হ্যাঁ, এটি আর প্রতিবাদস্থল নয়। কারণ ‘কাপুরুষ স্বৈরশাসক’ এটিকে এমনিতেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে!’
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ‘ভোট চোর, গদি চোর’ বলে স্লোগান দেন। কলকাতার রাজাবাজারে প্রতিবাদ সভা করেন তৃণমূল নেতারা। কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনসহ দলীয় নেতারা এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনে মাঠ ভাড়া নিতে হবে : বিক্ষোভ ঠেকাতে এবার বিজেপি সরকার অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে। দিল্লিতে নির্ধারিত তিনিটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজন করতে হলে এখন থেকে গাঁটের অর্থ খরচ করতে হবে। শুধু অর্থ খরচের প্রশ্নই নয়, নতুন তিন জায়গায় বিক্ষোভকারীরা চাইলেই অবস্থান বা ধরনায় বসতে পারবেন না। জায়গা খালি আছে কিনা, সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। সেই অনুযায়ী বিক্ষোভ কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। সব বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠন সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মামলাও দায়ের হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রামলীলা ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) বিক্ষোভের আয়োজন করতে এই বছরের মাত্র তিনটি দিন তাদের জন্য বরাদ্দ হতে পারে। সেই তিনটি দিন হচ্ছে ডিসেম্বরের ২৯, ৩০ ও ৩১ তারিখ। কেননা বাকি সব দিন সেখানে কিছু না কিছু হচ্ছে।
