ফাইনালে যেতে বড় সংগ্রহ গড়ে বোলারদের লড়াইয়ের পুঁজি দিতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু ব্যাটাররা হতাশ করেছেন আরও বেশি। প্রথম ম্যাচের চেয়েও করুণ বাংলাদেশের ব্যাটিং। টপঅর্ডার থেকে মিডলঅর্ডার সবাই ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। ফলে সমীকরণ মেলানো তো দূরের কথা, বাংলাদেশের জয় নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে হলে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে স্কোরকার্ডেই। ইনিংসে দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন মাত্র তিনজন ব্যাটার। সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রান এসেছে সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে। নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন ১৫ রান।
ইমন ও সাইফ প্রতিরোধ গড়তে না পারলে ১০০ রান পার করাই কঠিন হয়ে পড়ত বাংলাদেশের জন্য। তাদের ব্যাটে ভর করেই কোনোমতে দেড়শ রান পেরিয়েছে দল।
ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওভারের দ্বিতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে বল জমা হয় উইকেটরক্ষক রহমানুল্লাহ গুরবাজের গ্লাভসে। ৬ বলে ১ রান করে ফেরেন তামিম।
এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সৌম্য সরকার। তবে এক বলের বেশি উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি। আফগান পেসার ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ভেতরে টেনে এনে প্রথম বলেই বোল্ড হন সৌম্য। আগের ম্যাচেও ১৭ বলে মাত্র ৯ রান করেছিলেন তিনি।
সেখান থেকেই বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়। ইনিংসের সপ্তম ওভারে আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন তিনি। দুই বল পর ওমরজাইকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কোনো রান করতে পারেননি তিনি।
পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশের ইনিংস। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার সাইফ হাসান ও ছয় নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। ধীরগতিতে ব্যাটিং করে পঞ্চম উইকেটে ১৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা।
দুজনই ভালো খেলছিলেন। এরই মধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ইমন। সাইফও এগোচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তবে মোহাম্মদ নবীর বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
সাইফের বিদায়ে ভাঙে ৯৩ রানের জুটি। ৮২ বলে ৪১ রান করেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ৫০। এরপর ব্যাট করতে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ৬ বলে করেন মাত্র ২ রান।
তখন বাংলাদেশের শেষ ভরসা ছিলেন ইমন। দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও পারেননি। রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ইমন। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার বিদায়ের সঙ্গে কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা।
যে আই
