Published on
:
2 min read
ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনমজুরদের আধার, প্যান ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ সেই নথি ব্যবহার করে তাঁদের অজান্তেই খোলা হয় ৩৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। পরে সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে দেশজুড়ে ৯৯টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭.৩৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এই ঘটনায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের দুই শাখার ম্যানেজার-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এখনও পলাতক বলে খবর।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লির ত্রিনগর ও সরস্বতী বিহারের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় এই অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছিল। ত্রিনগর শাখায় ২০টি এবং সরস্বতী বিহার শাখায় ১৭টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে। কয়েক জন অ্যাকাউন্টধারী ব্যাঙ্কে যাননি, অথচ তাঁদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। নথিতে দেওয়া কিছু ঠিকানারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের ছবি ও KYC নথি সরাসরি যাচাই করে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দেয়।
কী ভাবে চলত প্রতারণা?
তদন্তকারীদের দাবি, ময়ঙ্ক কাপুর ওরফে রিঙ্কু নামে এক ব্যক্তি ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দিনমজুরদের পরিচয়পত্র, ছবি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। তাঁদের নামে সিম কার্ডও নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। পরে ওই নথি ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হতো।
পুলিশের অভিযোগ, সরস্বতী বিহার শাখার ম্যানেজার শোভিত আগরওয়াল গ্রাহকদের অনুপস্থিতিতেই অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি ময়ঙ্ককে ত্রিনগর শাখার ম্যানেজার সুশান্ত কুমারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন বলেও অভিযোগ। ব্যাঙ্কের চার কর্মী— মনোজ, অঙ্কুর, ফতিমা ও পঙ্কজ অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
টাকা কোথায় গেল?
পুলিশের সন্দেহ, সাইবার প্রতারণা থেকে পাওয়া টাকার একাংশ অভিযুক্ত ব্যাঙ্ককর্মীদের দেওয়া হয়েছিল। বাকি অর্থের একটি অংশ Trust Wallet ব্যবহার করে USDT নামে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে ফেলা হয়। এই লেনদেন এবং চক্রটির সঙ্গে কোনও চিনা নাগরিকের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কী কী উদ্ধার হয়েছে?
তল্লাশিতে পুলিশ সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১১টি সিম কার্ড, সাতটি চেকবই, সাতটি ডেবিট কার্ড, ৬০ হাজার টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৬৩টি আধার কার্ড, ৬০টি প্যান কার্ড ও ৫৫টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই নথিগুলি আরও অ্যাকাউন্ট খোলার কাজে ব্যবহার করা হতে পারত।
