শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পটিয়া সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে পটিয়া থানা-পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে থানা চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। কেউ গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করতে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, পৌরসভা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল খায়ের, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, পৌরসভা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক তাপস কুমার দে, পটিয়া উপজেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ দিপু এবং শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মাস্টার শ্যামল কান্তি দে প্রমুখ।
বক্তারা দুর্গোৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি জিয়াউল হক জিয়া বলেন, পটিয়ার মাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা চলাকালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পূজামণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
সভায় স্থানীয় সুধীজন ও ধর্মীয় নেতারা দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
