বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা, কর্মমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে ঢাকায় ১৭ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১৫টি দেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা অংশ নিয়ে প্রায় ১০০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত বিশ্বের শিক্ষার সমপর্যায়ে উন্নীত করা এবং কর্মসংস্থান উপযোগী, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (AUST) প্রধান অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে জ্ঞানের সমন্বয়, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর, নেতৃত্বের বিকাশ এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রাক্-সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মূল সম্মেলনের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষার সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে এবং নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দক্ষতাভিত্তিক ও নৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বয় জরুরি।
সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করছে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়া (USIM), বাংলাদেশের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (BIIT) এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST)।
সম্মেলনে থাকছেন শিক্ষামন্ত্রী
সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহছানুল হক মিলন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।
সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (IIIT) মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. ওমর হাসান কাসুলে সিনিয়র; ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার (USIM) উপাচার্য অধ্যাপক টিএস ড. শরিফুদ্দিন মোহাম্মদ শা’আরানী এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (IUT) সাবেক উপাচার্য ও আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফজলী ইলাহী।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইউসুফ এম. ইসলাম, ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দাতো ড. নিক সালিদা সুহাইলা নিক সালেহ, অস্ট্রেলিয়ার মইনুল হক ওএএম এবং ইন্দোনেশিয়ার ড. সিয়াফুদ্দিন আলী আখমাদ।
জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষার রূপান্তর
আয়োজকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা ও নেতৃত্বের পরিবর্তিত বাস্তবতায় জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে করণীয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
শিক্ষাকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের প্রয়োজন, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রায় ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ‘ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন’, তুরস্কের ‘সেঞ্চুরি অব তুরস্ক মারিফ মডেল’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘মারদেকা কারিকুলাম’সহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা মডেল নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন এবং প্রায় ১০০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরাও সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নতুন ধারণা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং দক্ষ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও চিন্তার আদান-প্রদান সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্মেলনের কো-চেয়ার অধ্যাপক মোহাম্মদ সরওয়ার মোর্শেদ এবং সম্মেলনের কো-অর্ডিনেটর ড. সৈয়দ শহীদ আহমদ প্রমুখ।
