আজকাল ওয়েবডেস্ক: অতীতেও কলকাতায় একাধিক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন পাচার কাণ্ডে। বলাবাহুল্য, বিদেশ থেকে কলকাতা শহরে চিকিৎসা করানোর নামে এসে শহর কলকাতায় মোবাইল ফোন চুরি ও বাংলাদেশে পাচার কাণ্ডের ঘটনায় একাধিক দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হয়েছে কলকাতা পুলিশের অভিযানে। এবার মুম্বইতে মোবাইল ফোন চুরি ও পাচার কাণ্ডের মামলায় কলকাতায় মুম্বই পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে তিন দুষ্কৃতী।
মুম্বইয়ে মোবাইল ফোন চুরি করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মুম্বই পুলিশ। সেই সংক্রান্ত মামলার তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিশ কলকাতা থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম, মোহাম্মদ মুস্তাক, মহম্মদ দানিশ ও সন্দীপ কুমার।
প্রথমে বড়বাজার থানা এলাকার জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ১৩৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মুস্তাক। ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য শুক্রবার আদালতে তোলা হয় মুস্তাককে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বড়বাজার থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গার্ডেনরিচ থেকে মোহাম্মদ মুস্তাক বলে এক যুবককে মুম্বই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই ব্যক্তি মোবাইল চুরি করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই যুবকে শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হলে সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।
এরপর গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয়বার অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে মুম্বই পুলিশ। অভিযুক্ত দুইজনের নাম মহম্মদ দানিশ ও সন্দীপ কুমার। আজ শনিবার ধৃত দু’জনকে মুম্বই পুলিশ ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য কলকাতার নগর দায়রা আদালতে হাজির করেছে। পরবর্তী তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হবে বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী আদালতকে জানান, মুম্বইয়ে মোবাইল ফোন চুরি করে, বাংলাদেশে পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মুম্বই পুলিশের একটি দল কলকাতায় এসে তাঁদের জাকারিয়া স্ট্রিটের ডেরায় অভিযান চালিয়ে এই দু'জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। মুম্বই পুলিশের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ড আদালত মঞ্জুর করেছে।
তল্লাশির সময় ধৃতদের কাছ থেকে ১৩৬টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বেশিরভাগই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। সেগুলি বাংলাদেশে পাচার করা হত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
অন্যদিকে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটে অবস্থিত একটি কুরিয়ার সংস্থার অফিসে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১৭০টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রভাষকুমার দাস নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চুরি করা মোবাইল ফোন আগরতলার পথে বাংলাদেশে পাচার করা হত। কীভাবে এই চক্র কাজ করত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
