
প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: AI
Published on
:
2 min read
ট্রেনের টিকিট কাটেন রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে? তা হলে আপনার জন্য এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টার থেকে কেনা ট্রেনের টিকিটেও বিমার সুবিধা দিতে হবে ভারতীয় রেলকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অনলাইনে টিকিট কাটলে যে বিমার সুবিধা পাওয়া যায়, কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলেও সেই সুবিধা দিতে হবে। ফলে টিকিট কেনার পদ্ধতি আলাদা হলেও বিমার ক্ষেত্রে যাত্রীদের মধ্যে কোনও ফারাক থাকবে না।
তবে কাউন্টারের টিকিটে বিমা কী ভাবে কার্যকর হবে এবং এর জন্য যাত্রীদের আলাদা করে টাকা দিতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেনি রেল। এই বিষয়ে রেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছে?
৬ অক্টোবর এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওড়িশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল। সেই সময়ই কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাত্রীদের বিমার আওতায় আনার বিষয়টি ওঠে।
এত দিন অনলাইনে আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট বা রেলওয়ান অ্যাপ থেকে টিকিট কাটার সময় যাত্রীরা চাইলে ট্রেনযাত্রার বিমার কভারেজ নিতে পারতেন। কিন্তু স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলে একই সুবিধা পাওয়া যেত না। এই ফারাক দূর করতেই ২৭ অক্টোবর থেকে সব রেল স্টেশনের কাউন্টারে বিক্রি হওয়া টিকিটে বিমার ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নির্দেশ কার্যকর না হলে রেলওয়ে বোর্ডকে দায়ী করা হবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ট্রেন দুর্ঘটনায় কত টাকা বিমা পাওয়া যায়?
অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে চালু থাকা বিমা প্রকল্পে নির্দিষ্ট দুর্ঘটনা বা বিমার আওতাভুক্ত ঘটনায় মৃত্যু, স্থায়ী অক্ষমতা বা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বিমার আওতায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হলো—
- মৃত্যু হলে: ১০ লক্ষ টাকা।
- স্থায়ী ভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে: ১০ লক্ষ টাকা।
- স্থায়ী ভাবে আংশিক অক্ষম হলে: সর্বোচ্চ ৭.৫ লক্ষ টাকা।
- আঘাতের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা হলে: সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা।
- মৃতদেহ পরিবহণের খরচ: ১০ হাজার টাকা।
এই অঙ্কগুলি অনলাইন টিকিটের বিদ্যমান বিমা প্রকল্পের নির্ধারিত সীমা। কাউন্টার টিকিটের ক্ষেত্রেও একই বিমা কাঠামো কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিমার শর্ত অনুযায়ী কোন ঘটনায় কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ক্ষতির ধরন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর।
বিমার জন্য কি অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে?
অনলাইনে টিকিট কাটার সময় চালু থাকা সাধারণ বিমা প্রকল্পে জনপ্রতি ৪৫ পয়সা প্রিমিয়াম লাগে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় যাত্রীরা বিমার বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
কিন্তু কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটে বিমার জন্য কত টাকা দিতে হবে, আদৌ আলাদা করে টাকা দিতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাউন্টারের টিকিটেও অনলাইন টিকিটের মতো বিমার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থা কী ভাবে চালু হবে, তা রেলের ঘোষণার পরেই পরিষ্কার হবে।
দুর্ঘটনা ঘটলে কী করবেন?
ট্রেন দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে বা অন্য কোনও বিমার আওতাভুক্ত ঘটনা ঘটলে বিমার টাকা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দাবি জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
- টিকিট এবং যাত্রার প্রমাণপত্র যত্ন করে রাখুন।
- আহত হলে চিকিৎসার কাগজপত্র, হাসপাতালের বিল এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট সংরক্ষণ করুন।
- বিমার দাবি জানানোর আগে প্রযোজ্য বিমার শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথি জেনে নিন।
- কাউন্টার টিকিটের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালুর পর রেল যে নিয়ম ও দাবি জানানোর পদ্ধতি জানাবে, তা অনুসরণ করুন।
মনে রাখতে হবে, এই বিমা মানেই সব ধরনের আঘাত বা দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে, এমন নয়। ঘটনার ধরন, ক্ষতির পরিমাণ এবং বিমার শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্য টাকা নির্ধারিত হবে।
