সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দুপুরের খাবারের বিল সাড়ে ১০ লাখ টাকা হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-দুই আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। অন্যদিকে, প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরের খাবার খান ১৫০ টাকায় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ত্রাণের ডিও ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শেখ হাসিনা বছরে ৩৫ কোটি টাকা খেয়েছেন। আমি শুনেছি, প্রতিদিন দুপুরে তার খাবারের বিল হতো সাড়ে ১০ লাখ টাকা। সেখানে তারেক রহমান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান। এর নাম তারেক রহমান।
প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী সাধারণ পোশাক পরেন এবং অনেক সময় নিরাপত্তাকর্মী বা অন্য কেউ সঙ্গে না থাকলে সাধারণ মানুষের মতো হেটে চলেন। তাকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে তিনি প্রধান মন্ত্রী।
চিফ হুইপ বলেন, জিয়াউর রহমানের মতো একজন মহৎ মানুষের রক্ত তারেক রহমানের শরীরে। তিনি একজন সহজ-সরল ও সৎ মানুষ। একজন কর্মপাগল, গরিবদরদি ও মানবদরদি মানুষ।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সহায়তা করবে বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, তার সময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ও সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাকে কে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, তা বিবেচ্য নয়; তিনি সবার প্রধান মন্ত্রী।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র পাচ মাস হয়েছে। এত অল্প সময়ে বিদ্যুৎ খাতের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অকার্যকর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং দেশের অর্থ বাইরে চলে গেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আগের সরকারের নেওয়া ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। গত পাচ মাসে তারেক রহমানের সরকার ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
