মৃন্ময়ী নয়। জলজ্যান্ত দশভুজা। বোধনের আগে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হল হেলথ কার্ড। বছরভর মৌসুমী ঘোষ, সারিতা খাড়কা, আশা হিমাঙ্গিনী, সিজু মেজর, ললিতা রায়, মৌমিতা মহন্ত, সৌমিতা রাহা, শিবানী মণ্ডল, অনিন্দিতা মণ্ডল, প্রমীলা খাতুনরা ব্যস্ত থাকেন অন্যের দেখভালে। “শরীর কেমন আছে?” এই প্রশ্ন লেগে যাদের মুখে লেগে থাকে সর্বদা। নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ পান না। এবার তাঁরাও চিকিৎসা করাতে পারবেন বিনামূল্যে।
নতুন হেলথ কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসক দেখানোর খরচ লাগবে না, ওষুধের উপর মিলবে পঞ্চাশ শতাংশ ছাড়, হাসপাতালে ভর্তি হলে লাগবে না বেডের ভাড়াও। শহর কলকাতায় কার্শিয়াং, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এসেছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। গ্রামীণ এলাকার মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে সংবর্ধনা জানাল জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স। ৫২ জনের হাতে তুলে দেওয়া হল হেলথ কার্ড। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার কৌশিক সেন।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, উৎসবের মরশুমে সমাজের প্রতি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের (Anganwadi Worker) দায়বদ্ধতা অপরিসীম। সেই আবহে তাদের প্রচারবিমুখ অবদানকে বৃহত্তর জনসমক্ষে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। কী কাজ করতে হয় তাদের? বাড়ি বাড়ি ঘুরে গর্ভবতী স্তন্যদায়ী মায়েদের পুষ্টি সম্পর্কে পরামর্শ দেন। ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এমনকী, প্রয়োজনে পড়াশোনাও শেখান খুদেদের। কাজের চাপে তারা ঠাকুর দেখার সুযোগ পান না। যাতায়াতের পথে ইতিউতি যেটুকু চোখে পড়ে। এবার তাদের জন্য আয়োজন করা হয় পুজো পরিক্রমারও।
