Published on
:
2 min read
এই সময়: এতদিন শুধুই সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই জনগণনার কাজ করতেন। সাধারণ মানুষের বাড়ি–বাড়ি গিয়ে তাঁরাই বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই নিয়মে এ বার বদল এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জনগণনা সম্পর্কিত নিয়ম সংশোধন করে নতুন নির্দেশিকায় কেন্দ্র বলেছে, জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীদেরও।
আগে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র সরকারি শিক্ষক, ক্লার্ক বা কোনও আধিকারিককে সেনসাসের গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ শুক্রবার সংশোধিত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগ ঘিরে। এক সময়ে এ রাজ্যের পাশাপাশি সারা দেশের বেকার যুবক–যুবতীরাও জনগণনার কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁদের একেবারেই সরিয়ে দিয়ে সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে (পুরসভা ও পঞ্চায়েত) কর্মরত সরকারি কর্মীদের জনগণনার কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি, স্থানীয় প্রশাসন, সাহায্যপ্রাপ্ত বা সাহায্যহীন বেসরকারি সংস্থা, ব্যাঙ্ক, প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা ট্রাস্ট থেকেও শিক্ষক, কর্মীদের সেনসাসের কাজে নিয়োগ করা যাবে। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যক্তিকে গণনার কাজে নিয়োগ করতে পারবে। বেকারদের সম্পূর্ণ ছেঁটে এখন আবার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়োগ কেন, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কলকাতা জেলার উপদেষ্টা ভীমসেন বিশওয়ালের বক্তব্য, ‘শিক্ষকরা সরকারি বা বেসরকারি স্কুল––যেখানেরই হোন না কেন, তাঁদের জনগণনা, ভোটার তালিকা তৈরি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (সার) যে কাজেই নিয়োগ করা হোক না কেন, তাতে পড়ুয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। শিক্ষকদের শিক্ষা–বহির্ভূত যে কোনও কাজে নিয়োগের অর্থই স্কুলে সিলেবাস শেষ হবে না। সেটা মাথায় রেখেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ সিআইএসসিই–র অধীন আইসিএসই স্কুলগুলির অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তার মতে, ‘কেন্দ্র যখন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তখন মানতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের বোর্ড বা কাউন্সিলে নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষন দিবস নির্দিষ্ট থাকে। এখন জনগণনার কাজের শিডিউল কী হবে, সেটাও দেখতে হবে। পড়াশোনায় প্রভাব তো পড়বেই। তবে শনি ও রবিবার সেনসাসের কাজ হলে, অনেকটা রিলিফ হবে।’
বিকাশ ভবনের এক আধিকারিকের দাবি, ‘সেনসাস কারা করতে পারবেন, ১৯৯০–এর জনগণনা বিধিতে তার উল্লেখ ছিল। সেই বিধি সংশোধন করে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন চলমান জনগণনার কাজে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।’ পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে সম্প্রতি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয় চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছিল ‘হরিয়ানা প্রগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স’। সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হরপ্রীত সিংহ ব্রার ৮ অক্টোবর জারি হরিয়ানা সরকারের দু’টি বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, ১৯৪৮–এর জনগণনা আইন বা তার অধীনে তৈরি নিয়মে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করার কোনও আইনি অধিকার নেই সরকারের। সেই আবহেই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র।
