Published on
:
2 min read
একসময় বাঙালির কাছে হাওয়া বদলের অন্যতম ঠিকানা ছিল পশ্চিমের মধুপুর। সাঁওতাল পরগনার এই অঞ্চলে বহু বাঙালি বাগানবাড়িও তৈরি করেছিলেন। তখন বেড়ানো মানেই ছিল বেশ কয়েক দিনের আরামে ছুটি কাটানো, যা জেন জ়ি-র ভাষায় ‘স্লিপ ট্যুরিজ়ম’। বাংলা সাহিত্যের পাতাতেও বার বার উঠে এসেছে গিরিডি-মধুপুরের নাম। সময় বদলেছে, বদলেছে ভ্রমণের ধরনও। তবে ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চলের প্রকৃতি, নিরিবিলি পরিবেশ আজও বাঙালির প্রিয়। তাই পুরোনো দিনের ভ্রমণের স্বাদ নিতে সপ্তাহান্তে পৌঁছে যেতে পারেন গিরিডি-মধুপুর।
ছোট্ট ছুটিতে গিরিডি-মধুপুর ঘুরে নিতে পারেন অনায়াসেই। কলকাতা থেকে ট্রেনে মধুপুর জংশনে পৌঁছে গাড়ি ভাড়া করে নিন। মধুপুরে রয়েছে পুরোনো বাংলো, মন্দির ও আশ্রম। একসময় বহু বাংলা ছবির শুটিং হয়েছে এখানকার ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলিতে। সেগুলো ঘুরে নিতে পারেন মধুপুর পৌঁছেই। নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য ঘুরে আসতে পারেন কপিল মুনির আশ্রম ও বিবেকানন্দ মঠ থেকেও।
কাছেই বুরাই পাহাড়। ছোট এই টিলার উপর থেকে উপভোগ করা যায় চারপাশের মনোরম দৃশ্য। মধুপুর থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের দূরত্বে খান্ডোলি ড্যাম। এখানে বোটিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া পাশের ছোট্ট পাহাড়ে উঠে উপভোগ করতে পারেন লেকের সৌন্দর্য। মধুপুরের বিকেলটা এখানে বসে কাটাতে পারেন।
উশ্রী জলপ্রপাত
মধুপুর থেকে ঘুরে নিন গিরিডি। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ উশ্রী জলপ্রপাত। বর্ষায় জলপ্রপাতের আসল রূপ দেখা যায়। তবে বছরের অন্য সময়ও এখানে আসতে পারেন। এখানকার চারপাশের প্রকৃতি মন কেড়ে নেয়। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ধানবাদের তোপচাঁচি হ্রদ থেকেও।
কী ভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?
হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে মধুপুর যাওয়া যায়। সড়কপথে দুর্গাপুর, আসানসোল ও জামতাড়া হয়ে পৌঁছতে পারেন।
মধুপুরে থাকার জন্য গেট হাউস ও হোটেল পাবেন। এখানে বহু পুরোনো বাংলো সংস্কার করে গেট হাউস তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোও বেছে নিতে পারেন।
FAQ
১. গিরিডি-মধুপুর কোথায় অবস্থিত?
গিরিডি ও মধুপুর ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
২. কলকাতা থেকে কী ভাবে মধুপুর যাবেন?
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে মধুপুর জংশনে পৌঁছতে পারেন। সড়কপথেও যাওয়া যায়।
৩. মধুপুরে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
পুরোনো বাংলো, কপিল মুনির আশ্রম, বিবেকানন্দ মঠ ও বুরাই পাহাড় ঘুরে দেখতে পারেন।
৪. খান্ডোলি ড্যামে কী কী করা যায়?
খান্ডোলি ড্যামে বোটিং করা যায়। পাশের ছোট পাহাড়ে উঠে লেকের সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারেন।
৫. মধুপুরে থাকার কী ব্যবস্থা রয়েছে?
মধুপুরে হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। পুরোনো বাংলো সংস্কার করে তৈরি গেস্ট হাউসেও থাকতে পারেন।
