ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। শুক্রবারই সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার মিড-টার্ম নির্বাচনে ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি দাবি করলেন, রবিবারই ইরান আক্রমণ করা হতে পারে। আবার একইসঙ্গে সমঝোতার পথও খোলা রেখেছেন তিনি।
মিড-টার্ম নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে, মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য থাকবে কি না। ইরান আক্রমণের পর পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আমেরিকার অন্দরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে। ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে তাই অনেকেই অখুশি। আবার এই নীতির সমর্থকও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জনমত বোঝার জন্য মিড-টার্ম নির্বাচনকেই পাখির চোখ করেছিলেন ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, ভোট না মেটা পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ায় আর কিছু করবেন না।
শনিবার ফ্লরিডায় একটি জনসভা থেকে ভিন্ন সুর শোনা যায় মার্কিন প্রেসি়ডেন্টের গলায়। তিনি জানান, ইরান আবার ‘মহাকাব্যিক রোষের’ মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ, আবার বড়সড় কোনও হামলা হতে পারে ইরানের উপর। শনিবার সেই ফ্লরিডাতেই ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘‘কালই হামলা করতে পারি। সেই সম্ভাবনা আছে। আবার আমাদের মধ্যে একটা দারুণ, বড় এবং সুন্দর সমঝোতা হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও রয়েছে।’’
পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনাবাহিনীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘‘আমরা দারুণ কাজ করেছি। আমাদের নৌসেনা এবং স্থলসেনা ভাল কাজ করেছে। তারা ইরানের প্রত্যেকটি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দিয়েছে। ২৫৯টি জাহাজ এখন সমুদ্রের তলায়। ওদের সামনে এখন নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ছাড়া আর কিছু নেই।’’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিশানা করেছে ইরান। সমুদ্রের নীচ দিয়ে যোগাযোগের যে তার গিয়েছে, ইরান তা ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জানিয়েছে, তারগুলির উপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওই তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তেহরানের ওই হুমকির পরেই ট্রাম্প ফের হামলার কথা বলেছেন। তবে ইরানের সমঝোতা করার ইচ্ছে আছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘ওরা সমঝোতা করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল ওরা কি সেই সমঝোতা ধরে রাখতে পারবে?’’ ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ইরানকে কোনও দিন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না-দেওয়া। তার জন্য যা করা প্রয়োজন, তাঁরা করবেন।
