কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা, ভুয়া তথ্য ও স্প্যাম ছড়ানো প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিটির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। এ লক্ষ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে চালু করা হয়েছে এআইবিষয়ক লার্নিং হাব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মধ্যেই এআই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা পাবেন। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল কনটেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। অ্যাপে এআই-সম্পর্কিত শব্দ লিখে সার্চ করলে ফলাফলে দেখা যাবে লার্নিং হাব। সেখানে এআই কনটেন্ট শনাক্ত করার উপায়, প্রযুক্তিটির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও রিসোর্স পাওয়া যাবে। এআই ব্যবহার করে স্প্যাম ছড়ানো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতেও উন্নত প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। বিশেষ করে মানুষের আস্থা ও সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি স্প্যাম কনটেন্ট ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কনটেন্টের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কনটেন্টের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ে কাজ করা ‘কোয়ালিশন ফর কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেনটিসিটি’ (সিটুপিএ) জোটের স্টিয়ারিং কমিটিতে যুক্ত হচ্ছে টিকটক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ন্যামলি এবং এআই বিশেষজ্ঞ হেনরি আজদারের সঙ্গে যৌথভাবে এআই টুল দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টিকটকে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্তে উৎসসংক্রান্ত তথ্য, নির্মাতার দেওয়া লেবেল এবং অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো কনটেন্ট কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে-সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এআই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ২০২৫ সাল থেকে ‘নোফিল্টার’ ও ‘রাসবেরি পাই ফাউন্ডেশন’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করছে টিকটক। এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত চার মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ‘স্মার্ট স্পিøøট’, ‘এআই আউটলাইন’ ও ‘ম্যানেজ টপিকস’-এর মতো ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বও বাড়ছে। টিকটকের নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ব্যবহারকারীরা যেন কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং একই সঙ্গে স্প্যাম ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকি কমানো যায়।
