২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। কিন্তু সেই লড়াইয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসে হামজা চৌধুরীর লাল কার্ড। ৪৪ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে। বাকি সময় ১০ জন নিয়ে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি শেফিল্ড। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এখন হামজার লাল কার্ড এবং রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফ্র্যাটন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে শুরুতেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরে দলটি। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ের প্রতিদান মেলেনি। ৮৯ মিনিটে গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় শেফিল্ডকে। হারের হতাশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হামজার লাল কার্ডের ঘটনা। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারকে। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ডকে।
হামজার লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। চ্যাম্পিয়নশিপের এই ম্যাচে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করে মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। এর মধ্যে ৪৪ মিনিটে করা ফাউলের পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। তবে রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
চেলসি থেকে ধারে পোর্টসমাউথে যোগ দেওয়া রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মাটিতে পড়ে যান হামজা। এ ঘটনায় তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইল্ডার। শেফিল্ড কোচের দাবি, রেফারি প্রথমে হামজাকে জানিয়েছিলেন, তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা কোথায় যাবে? সে কি মিস্টার ক্লেপল, যে হুট করে অদৃশ্য হয়ে যাবে? মাঠজুড়েই এমন ঘটনা ঘটছে। স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে।’
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অসন্তোষ জানিয়ে শেফিল্ড কোচ আরও বলেন, ‘হামজা আসলে কোথায় যাবে, সেটাই আমার বুঝে আসে না। আমাকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ হয়তো আমি যা বলতে চাই, তা সরাসরি বলতে পারছি না। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকেও আমাদের একজন খেলোয়াড়কে বক্সের মধ্যে টেনে ধরা হয়েছিল। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল, তার জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।’
রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ওয়াইল্ডার বলেন, ‘কথা হচ্ছিল, রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখাবেন না। এরপর দেখলাম, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা সেখানে গিয়ে ভিড় করছে। এটা হয়তো খেলার কৌশলের অংশ। তবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের সঙ্গে কিছুটা অবিচার করা হয়েছে।’
চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে দলটি। চলতি মৌসুমে শেফিল্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা চৌধুরী। তবে এখনো গোলের দেখা পাননি বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
