কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে নদীর বিভিন্ন স্থানে মরা মাছ ভেসে উঠলে সেগুলো সংগ্রহ করতে নামেন স্থানীয় লোকজন। এমনকি ছোট ছোট শিশুরাও এসব মাছ কুড়িয়ে নিচ্ছে। বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া মাছ খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক। অন্যদিকে, নির্বিচারে মাছ নিধনের ঘটনায় নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ধলাই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে। এতে বাঘমাছ, মিরগা, চিংড়ি, বাইং, গুলশা, মলা-ঢেলা ও পুঁটিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ মারা যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মশারি ও জাল দিয়ে এসব মাছ সংগ্রহ করেন।
নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করতে আসা জয়নাল মিয়া ও তাঁর ছেলে জানান, প্রতিবছরই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। তাঁরা এসব মাছ বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খান। তবে এভাবে মাছ নিধনকে অন্যায় উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম ও নাজমুল হাসান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই নদীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনকে জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এভাবে মাছ নিধন চলতে থাকলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাকুর আহমেদ বলেন, বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া মাছ রান্না করে খেলেও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এতে কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষ প্রয়োগে মারা গেছে বলে সন্দেহ হয়, এমন মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি জেলা পর্যায়ের সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানান।
