ঢাকা: দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ৪৫০ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দফতরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মন্ডপগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় নিরাপত্তা সহায়তা সহজ করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। দূরত্ব বা দুর্গমতার কারণে কোন এলাকার মানুষ যেন নিরাপত্তা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই আমাদের লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, পূজা চলাকালে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে আমাদের বিশেষ সতর্কতা বজায় থাকবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনুরোধ, সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করুন। সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প, পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন। নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনী ও প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পূজার প্রতিটি দিন আপনাদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ এবং অপরাধীদের তৎপরতা প্রতিরোধে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পূজার বিশেষ দায়িত্বের পাশাপাশি বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও সীমান্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জোরপূর্বক পুশ-ইনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় বিজিবি দৃঢ়তা, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিরবিচ্ছিন্ন নজরদারি, টহল এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় বিজিবি দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এই প্রচেষ্টায় আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করে তুলি।
