আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও শোকে আচ্ছন্ন উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার যোগেন্দ্রনগরে মৃত প্রিয়া সমাদ্দারের পরিবার। তাদের সঙ্গে দেখা করতে বুধবার প্রিয়ার বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক, জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। প্রিয়ার ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
আদরের মেয়েকে তো আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবার যাতে অসহায় হয়ে না পড়ে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রিয়ার মা দীপা সমাদ্দার কে স্থানীয় বিডিও অফিসে চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, পরিবারের ছোট মেয়ের ভবিষ্যৎ ও দেখভালের জন্য আর্থিক সাহায্যের কথাও জানান। প্রিয়ার মা স্কুটি চালাতে জানলে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স করতে পারলে তাঁকে একটি স্কুটি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে তাঁর যাতায়াতের সুবিধা হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রিয়ার বাবা শ্যামল সমাদ্দার পেশায় দর্জি। পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দফতরকে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য একজন আশাকর্মীকে যুক্ত করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক এবং মন্ত্রী ডা. কল্যাণ চক্রবর্তীও পরিবারটির পাশে থাকবেন বলে জানান শুভেন্দু। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তিনি নিজেই বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, আগের দিন ছ’টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন, এদিনও একাধিক পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মৃত মুজফ্ফরপুরে বাসিন্দার ওখানে যাওয়া সম্ভব না হলেও জেলাশাসকের মাধ্যমে সেখানে ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তের বিষয়টি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সেই প্রশ্নেও তদন্তকারী দলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
মৃতার পরিবারের আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা মিলিয়ে মোট ২৭ লক্ষ টাকা পেয়েছে পরিবারটি। প্রিয়ার মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বয়স ৩৬ বছর এবং তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাই তাঁকে স্থানীয় বিডিও অফিসে কাজ দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রিয়ার মা জানান, বিডিও অফিসে চাকরির ব্যবস্থা করার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া ২ লক্ষ টাকা তাঁর ছোট মেয়ের নামে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চোখে জল নিয়েই প্রিয়ার মা বলেন, যে চলে গেছে, তাকে তো আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না। যতটুকু পাশে দাঁড়ানো যায়, আমরা দাঁড়াব বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় মেয়ের স্মৃতি আগলে, এখন ছোট মেয়েকেই বড় করার লক্ষ্য অসহায় এই সন্তান হারানো বাবা-মায়ের।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
