মন্ত্রী নিকোলা ফরিসিয়েরের ভারত সফরের পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশ সফরের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক সফরসূচি কিংবা সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কৃষিপণ্য রপ্তানি, শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ফরাসি বিনিয়োগকারী, আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ইউরোপীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন আনুষ্ঠানিক আলোচনা, কার্যকর ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ।
প্যারিসের নর্দ ভিলপাঁত প্রদর্শনী কেন্দ্রে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সিয়াল প্যারিস ২০২৬’। আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি-খাদ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদক, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, পরিবেশক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে পাওয়া এবং খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরাসি সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের কথা ছিল মন্ত্রী নিকোলা ফরিসিয়েরের। ফ্রান্সের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর দায়িত্বের অন্যতম ক্ষেত্র। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় তাঁর অংশগ্রহণকে ফরাসি খাদ্যশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশি ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফরাসি কৃষি সমবায় সংগঠন লা কোঅপারাসিওঁ আগ্রিকোলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় খাদ্যশিল্প সমিতি ও বিজনেস ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে ‘টেস্ট ফ্রান্স’ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ফরাসি খাদ্যপণ্য তুলে ধরা হচ্ছে। সংগঠনটির তথ্যমতে, এবারের প্রদর্শনীতে প্রায় ৩০টি কৃষি সমবায় প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নতুন রপ্তানি বাজার চিহ্নিত করা এবং ফরাসি খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্যও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মূল্য সংযোজন এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
সিয়াল প্যারিসের ১৯ অক্টোবরের কর্মসূচিতে খাদ্য সার্বভৌমত্ব, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি প্রবাহ সুরক্ষার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প বাজার অনুসন্ধান, নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার তৈরি এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এসব চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগও রয়েছে। কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি, উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এ খাতে অগ্রগতি সম্ভব।
মন্ত্রী নিকোলা ফরিসিয়েরের ভারত সফরের পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ সফরের প্রতি আগ্রহ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। তাঁর বাংলাদেশ সফর বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প বিনিয়োগ এবং কৃষি-খাদ্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ, ইউরোপীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং ফরাসি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের যোগাযোগ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে প্রত্যাশার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সফরের তারিখ, কর্মসূচি, বৈঠকের বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশ-ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত ফরাসি মন্ত্রীর বক্তব্যে ভারত সফরের পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ পাওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
The post ভারত সফরে ফরাসি মন্ত্রী নিকোলা ফরিসিয়ের, পরিকল্পনায় বাংলাদেশও—প্যারিসে জানালেন সাংবাদিক জুনেদ আহমদকে appeared first on ভোরের চেতনা.
