The Sangbad · দেশ
এলপি গ্যাস বিক্রি: বাজার তদারকিতে ডিসিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা
১৩/১০/২০২৬

সারাদেশেই বিইআরসির নির্ধারণ করা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। রান্নায় বহুল ব্যবহৃত এই গ্যাসের বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে প্রশাসকদের (ডিসি) একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে: প্রত্যেক ডিসি তার জেলার সব এলপিজি (এলপি গ্যাস) ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবেন। বিইআরসি নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান।অক্টোবর মাসের জন্য বেসরকারি পর্যায়ের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই ওজনের সিলিন্ডার আবাসিকে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ওজনের সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের ২ হাজার ৩শ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে।এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ওই সভায় এলপিজির বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলা প্রশাসক তার জেলার সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবেন। সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার কত পরিমাণ এলপিজি পেয়েছেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয় যতটা সম্ভব সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।এ ছাড়া জেলা প্রশাসকেরা অবিলম্বে নিজ নিজ জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করবেন। ওই সভায় জেলার এলপিজি সরবরাহ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।সরকারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহের পুরো ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ (চ্যানেল) থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায় শনাক্ত ও যাচাই করা যায়। কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারের পাওয়া এলপিজির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য থাকলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।সংগৃহীত তথ্যে কোনো এলাকায় এলপিজির সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহব্যবস্থায় কোনো বিচ্যুতি কিংবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জেলা পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে এলপিজির অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারক করা সম্ভব হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗