মুম্বই, ১৪ অক্টোবর: মর্মান্তিক ঘটনা। মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয় দুই মহিলার। মৃতদের নাম ফাল্গুনী শাহ (৫০), অশ্বিনী পার্কার (৫০)। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আগুনের ফলে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গতকাল মধ্যরাতে নালাসোপারা ভাসাই লিঙ্ক রোডের আচোল এলাকার এক বহুতল আবাসনে আগুনটি লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বহুতলের উপরের তলাগুলিতে আটকে পড়েন। এরপর আগুন দেখে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে যান স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। আসে পুলিশ। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আগুন নেভানো ও আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন, জলের ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভাসাই-বিরার পুরনিগমের কমিশনার জানান, দমকলকর্মী, পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে টিটিএল মেশিন ও দমকলকর্মীদের সাহায্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিজেরাই নিরাপদে বহুতল থেকে নেমে আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির থাকার অস্থায়ী ব্যবস্থার জন্য আশপাশের ব্যাঙ্কোয়েট হল ও হোটেলগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হয়।
দমকল আধিকারিকদের মতে, আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল বহুতলের ১৩ ও ১৪ তলায়। পাশাপাশি ১২ তলার রিফিউজ ফ্লোরের দরজাও আগুনে পুড়ে যায়। বিশেষ টিটিএল মেশিনের সাহায্যে বহুতলের বাইরে আটকে পড়া আটজনকে উদ্ধার করা হয়। আগুনের তীব্রতা এবং সিঁড়িঘরে প্রচণ্ড গরমের কারণে দমকলকর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়।
এদিকে, ভাসাই-বিরার পুরনিগমের তুলিঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, মৃত দুই মহিলার শরীরে সামান্য দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁদের ফুসফুসে ধোঁয়া প্রবেশের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইনকোয়েস্ট বা সুরতহাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেহ দুটি ভাসাই পশ্চিমের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যাবে।
অন্যদিকে, কীভাবে আগুন লাগল, তা জানতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহুতলটির নির্মাণের অনুমতি, অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র, আগুন নেভানোর ব্যবস্থার অবস্থা এবং বৈদ্যুতিক প্যানেলে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। কোনও গাফিলতি বা অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ধরা পড়লে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরনিগমের কমিশনার।
