এক ভোটারের নাম ‘রাম নে যাদব কো মারা’, বাবার নাম ‘মূর্খ চন্দ্র যাদব’! অন্য এক ভোটারের নাম ‘রাম নে শর্মা কো মারা’, বাবার নাম ‘বি.কম’! উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় এমনই কিছু অদ্ভুত নাম ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনার মুখে এ বার ‘অন্তত’ ১৫৮টি নামের ক্ষেত্রে ভুলের কথা স্বীকার করে ‘ব্যাখ্যা’ দিল উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। সিইও নবদীপ রিণওয়া শুক্রবারই ঘটনার ‘ব্যাখ্যা’ দিয়েছিলেন। শনিবার কমিশনের তরফে এ বিষয়ে লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, এই ভুলের কারণে কোনও ভোটার যাতে সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে। প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি আসনের জন্য (৫টি স্নাতক এবং ৬টি শিক্ষক নির্বাচনী কেন্দ্রে) শুক্রবারই ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেখানে ভোটার তালিকায় কারচুপির পাশাপাশি জাল ভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখলের মতো অভিযোগ উঠেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, বিজেপি নেতৃত্বের উচিত তাঁদের কর্মীদের জন্য ভোটচুরির প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা।’’ বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ২৭ অক্টোবর।
উত্তরপ্রদেশে এ বারের বিধান পরিষদ ভোটে মোট ভোটদাতার সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৩১০। শনিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, ইংরেজিতে লেখা নাম হিন্দিতে অনুবাদ করতে গিয়ে ‘অন্তত’ ১৫৮টি ক্ষেত্রে সফট্অয়্যার গোলমাল পাকিয়েছে। ভোটার বা তাঁর পরিজনের (পিতা বা স্বামী) নাম ভুল এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলাশাসকদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে বলেও কমিশনের দাবি। ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত রাখার দায়িত্ব ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও (বিভাগীয় কমিশনার) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও-র (সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক)। ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা থাকলেও, সংশ্লিষ্ট স্তরে যথাযথ নজরদারির অভাবেই ভুলগুলি থেকে গিয়েছে। শুক্রবার ভোটার তালিকায় নাম বিভ্রাট নজরে আসার পরেই কয়েক জন ইআরও-কে সরানো হয়েছিল।
অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ইংরেজিতে লেখা নাম হিন্দিতে অনুবাদের সময়েই এমন প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটছে বলে উত্তরপ্রদেশের সিইও নবদীপ জানিয়েছেন। এই প্রথম বার স্নাতক এবং শিক্ষক কেন্দ্রগুলির জন্য জেলাভিত্তিক ‘ম্যানুয়াল’ ব্যবস্থার বদলে অনলাইনে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন দফতরের আইটি দল মাত্র চার মাসের মধ্যে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করে। এই সিস্টেমে ভোটার রেজিস্ট্রেশন, আবেদনপ্রক্রিয়া, অনুমোদন, বাতিল, ডুপ্লিকেশন চেক, সিরিয়ালাইজ়েশন এবং ভোটার তালিকা ডাউনলোডের মতো একাধিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নামের শব্দগুলির অর্থ ধরে অনুবাদ করে ফেলে সফটওয়ার। উদাহরণ হিসেবে, ‘রামহিত যাদব’ নামটি ভুল করে ‘রাম হিট যাদব’ লেখা হলে, সফটওয়্যার ‘হিট’ শব্দের অর্থ ধরে সেটিকে ‘রাম নে যাদব কো মারা’ অর্থাৎ ‘রাম যাদবকে মারল’ হিসেবে অনুবাদ করেছে। অন্য নামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভুল হয়েছে। অন্যদিকে, বাবার নামের জায়গায় ‘বি.কম’ চলে আসার ঘটনাকে মানবিক ভুল বা দায়িত্বে অবহেলার ফল বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধরনের ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্তরে যথাযথভাবে যাচাই না করায় কিছু ভুল ভোটার তালিকায় থেকে গিয়েছে। এই ভুলের কারণে কোনও ভোটার যাতে সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
