গত মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর তাদের ঐতিহাসিক মার্টিয়ান মন্স এক্সপ্লোরেশন মহাকাশযানটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে জাপান। এই মিশন সফল হলে কেবল জাপানই নয়, সমগ্র মানবজাতির মহাকাশ-উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে। তবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে বেশ কয়েক মাস।
‘মহাকাশের লাল লণ্ঠন’ মঙ্গলের চাঁদ তথা উপগ্রহ দু’টি। ডিমোস ও ফোবোস। দ্বিতীয়টিই জাপানের মহাকাশযানের নজরে। সেখানে নেমে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য মার্টিয়ান মন্স এক্সপ্লোরেশন মহাকাশযানের। আর সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা নাগাদ যানটি উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে এইচ৩ রকেটে পৃথিবীর ‘উঠোন’ পেরিয়ে যায় ওই যান। বলাই বাহুল্য, কোনও মানুষ নেই সেখানে। ২০২৭ সালের আগস্টে মঙ্গলের ধারেকাছে পৌঁছে যাওয়ার কথা যানটির। ফোবোসের মাটিতে নামহে আইদেফিক্স নামের এক ছোট্ট রোভার। তারপর সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে খনন চালাবে সেটি। ২০৩১ নাগাদ ১০ গ্রাম মাটি নিয়ে যানটির পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা। যা সফল হলে ফোবোস সম্পর্কে এমন সব কথা হয়তো জানা সম্ভব হবে যা আগে কখনও জানা যায়নি। এর ফলে মানুষের মহাকাশ সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি আরও বেড়ে যাবে। যা আগামিদিনের গবেষণাকেই নতুন দিশা দেখাবে।
বলে রাখা ভালো, এযাবৎ গত ৫০ বছরে নাসা সফলভাবে ৯টি মহাকাশযান মঙ্গলের মাটিতে পাঠাতে পেরেছে। ২০২১ সালে মঙ্গল ছুঁয়েছে চিনও। কিন্তু ফোবস থেকে গিয়েছে তাদের নাগাল থেকে দূরে। ডিমোসে অবশ্য কেউ এযাবৎ অবতরণ করে উঠতে পারেনি। নমুনা সংগ্রহ করে আনা অনেক পরের বিষয়। সবচেয়ে যেটা আশ্চর্যের, এতবার মঙ্গলে নেমেও নাসা সেখানকার মাটির নমুনাও পৃথিবীতে আনতে সফল হয়নি। সেই দিক থেকে ফোবোসের মাটির নমুনা আমাদের নীল রঙের গ্রহে পৌঁছলে মহাকাশ অভিযানের এক বিরাট দিগন্ত ছুঁয়ে ফেলবে মানুষ, একথা বলাই যায়।
