ইস্টবেঙ্গল - ৫
ইন্টার কাশী - ১
আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটছে। চার্চিল ব্রাদার্সের পর ইন্টার কাশী। শুরুতেই দুই অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ফুল পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে আন্তোনিও হাবাসের দল। শুক্রবার পুনের বালোয়ারি স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। শুধু তাই নয়, ব্যাক টু ব্যাক চার এবং পাঁচ গোল। দারুণ শুরু। প্রাক্তন দলকে খেলা তৈরি করার সুযোগ দেননি হাবাস। প্রথমার্ধেই চার গোল করে জয় নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল। ব্যবধান অবশ্য আরও বাড়তে পারত। কিন্তু সহজ সুযোগ মিস করেন রশিদ, রামিরেজ, বিপিনরা। তবে এদিন ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় পাওনা আকে লোবা। গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও স্কোরশিটে নাম তোলেন। একইসঙ্গে দলের অন্য দুই বিদেশি দানি রামিরেজ এবং জোলেনস্কিও গোল পান। আইএসএলের টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত ইস্টবেঙ্গল।
এদিন দলে পাঁচটি পরিবর্তন করেন হাবাস। কিন্তু তাতে ছন্দে কোনও বদল ঘটেনি। ফরমেশন ৪-২-৩-১। আপফ্রন্ট সম্পূর্ণ বদলে দেন। প্রথম একাদশে রাখেন লোবাকে। একেবারে সামনে। তার পেছনে বিপিন, রামিরেজ এবং বিষ্ণু। চলতি মরশুমে প্রথমবার শুরু করেন বিষ্ণু। অন্যদিকে ইন্টার কাশী দলে একটি পরিবর্তন। ৪-৩-৩ ছকে দল সাজান কোচ। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই অলআউট ঝাঁপায় ইস্টবেঙ্গল। তার ফলও মেলে। ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটে জোড়া সুযোগ। নিশ্চিত গোল মিস করেন বিপিন সিং। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণ শুরু মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদের পা থেকে। তারপর আকে লোবার পাস। কিছুটা জমি অতিক্রম করে বিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের আলতো লবে ইন্টার কাশীর গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে গোল।
পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে হাবাসের দল। দুই উইং এবং মিডল করিডর দিয়ে আক্রমণ। দারুণ রামিরেজ এবং লোবা। ম্যাচের ১৬ মিনিটে ২-০। এবারও আক্রমণের মূলে লোবা। তাঁর পাস থেকে বল পান পিভি বিষ্ণু। বাঁ দিক থেকে গতি বাড়িয়ে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন। বিষ্ণুর বাঁ পায়ের গড়ানো শট গোলকিপার অ্যালবিনোর হাতের তলা দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। খুব বেশি আক্রমণে উঠতে পারেনি কাশী। তবে তারমধ্যেও সুযোগ ছিল। ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় গোলের দু'মিনিটের মধ্যে ব্যবধান কমাতে পারত ইন্টার কাশী। কিন্তু গ্যাব্রিয়েলের শট পোস্টে লাগে। পিন্টোর দল ম্যাচে ফেরার আগেই ৩-০। ম্যাচের ২১ মিনিটে রামিরেজকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেয় ইন্টার কাশীর ডিফেন্ডার। পেনাল্টি দেন রেফারি। ম্যাচের ২২ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করেন লোবা।
খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ম্যাচের ২৮ মিনিট ব্যবধান কমায় কাশী। গোল করেন চিকারা। তবে তাতে বিশেষ পার্থক্য তৈরি হয়নি। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ৪-১ করে ইস্টবেঙ্গল। বিপিনের ক্রস থেকে হেডে গোল লোবার। নিজের দ্বিতীয়। সংযুক্তি সময় গোলের আরও সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ডানদিক থেকে বিপিনের ক্রস থেকে রামিরেজের শট পোস্টে লাগে। ফিরতি বল বক্সের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন রশিদ। গত কয়েক ম্যাচ ধরে চেনা ছন্দে পাওয়া যাচ্ছে না প্যালেস্টাইনের মিডফিল্ডারকে। বিরতির পরও টেম্পো ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল। পুরোপুরি একপেশে ম্যাচ। শুধু গোল সংখ্যা বিশেষ বাড়েনি। ম্যাচের ৮১ মিনিট পাঁচ নম্বর গোল তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ইকোনমিডিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় গোল জোলেনস্কির।
