গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি বাড়িতে অগ্নিকা-ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাঝিখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে মা ও বড় ছেলের অবস্থা গুরুতর। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাবা ও ছোট ছেলেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেনÑ মুদি দোকান ব্যবসায়ী মহসিন প্রধান রুবেল (৩২), তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম (২৬) এবং তাদের দুই ছেলে সোয়াদ প্রধান (৩) ও সাহেন প্রধান (৬)।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বাড়ির ডাইনিং রুমের সোফায় আগুন দেখতে পান তারা। মহসিন প্রধান পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। একপর্যায়ে বাড়ির কাঠের সিলিং ও বারান্দায় রাখা দুটি মোটরসাইকেলেও আগুন লাগে। এতে পরিবারের চার সদস্য দগ্ধ হয়।
মহসিন প্রধানের ভাগ্নি সুমাইরা অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে। তার ধারণা, গান পাউডার জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, পানি দেওয়ার পর আগুন নেভার বদলে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। এ কারণে তাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তবে অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দগ্ধ চারজনকে প্রথমে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে সাদিয়া বেগমের শরীরের ৪০ শতাংশ, ছোট ছেলে সাহেনের ১২ শতাংশ, বড় ছেলে সোয়াদের ২ শতাংশ এবং মহসিন প্রধানের ১ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের মধ্যে মা ও বড় ছেলে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বাবা ও ছোট ছেলেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমানও দগ্ধ চারজনের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।